প্রযুক্তি

ব্রাজিল নিয়ে কিছু অজানা তথ্য

প্রায় ৯০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অ্যামাজনীয় শহর সানতারেম এবং মন্টে অ্যালেগ্রেতে গড়ে উঠেছিল ব্রাজিলের জনবসতি। তখন এখানে কৃষক, জেলে এবং শিকারিদের বসবাস ছিল।দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র ব্রাজিল। দেশটির সাংবিধানিক নাম সংযুক্ত প্রজাতন্ত্রী ব্রাজিল। পর্তুগিজ শব্দ ‘হেপুব্লিকা ফ়েদেরাচিভ়া দু ব্রাজ়িউ’ নামেও এটি পরিচিত। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। ৮,৫১৪,৮৭৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে বসবাসকৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি। এটি আমেরিকার একমাত্র পর্তুগিজ ভাষী দেশ এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ পর্তুগিজ ভাষী রাষ্ট্র।১৫০০-১৮২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল একটি পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল।১৮২২ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে দেশটি।ব্রাজিলের মাধ্যমেই আমেরিকার দাস প্রথা সম্পূর্নভাবে বিলুপ্ত হয়।মজার ব্যাপার হচ্ছে চিলি ও ইকুয়েডর বাদে দক্ষিণ আমেরিকার সকল দেশের সাথে ই ব্রাজিল সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।জনসংখ্যা ও ভৌগলিক আয়তনের ভিত্তিতে এটি বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম দেশ।ব্রাজিলের বেশিরভাগ বাসিন্দা পূর্ব সমুদ্র তীরে বসবাস করে।ব্রাজিলের রাজধানীর নাম ব্রাসিলিয়া।ব্রাসিলিয়া শহর কিছুটা সমুদ্রের কাছাকাছি হলেও একটু অভ্যন্তরে অবস্থিত।বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাজধানী কে সুরক্ষিত রাখতে ই এরকমভাবে রাজধানী তৈরি করা হয়।

পৃথিবীর বৃহত্তর বনাঞ্চল আমাজন এর প্রায় ৬০ ভাগ ই অবস্থিত ব্রাজিল এ।বিশাল জল বিদ্যুত,শিল্প কমপ্লেক্স,খনি এবং উর্বর জমির কারনে দেশটি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ।ক্রয়ক্ষমতা সমতা ও মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ভিত্তিতে ব্রাজিলের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতি। তাছাড়া ব্রাজিল জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত। ব্রাজিলে বিভিন্ন প্রকারের প্রকৃতি সংরক্ষণকেন্দ্র ও অভয়ারণ্য বিদ্যমান।

তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পতুগিজ ঔপনিবেশকদের শাসনের ফলে, ব্রাজিলের সংস্কৃতির মূল অংশটি এসেছে পর্তুগালের সংস্কৃতি  থেকে।
ব্রাজিল ৭ টি প্রাকৃতিক ও ১৪ টি সাংস্কৃতিক ইউনেস্কো ওর্য়াল্ড হ্যারিটেজ সাইটের আবাসস্থল। ব্রাজিলিয়ানরা মুলত তিনটি জাতি গোষ্ঠী থেকে এসেছে আমেরিকান,আফ্রিকান ও ইউরোপিয়ান।বিশ্বের বেশিরভাগ ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের বসবাস ব্রাজিলে।

ব্রাজিলীয় চলচ্চিত্রের গোড়াপত্তন হয় ১৯ শতকের শেষ দিকে। অনেক অভ্যন্তরীণ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের চলচ্চিত্র দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছে।ব্রাজিলীয় সাহিত্য বিশ্বে অন্যতম আলোড়ন তোলা সাহিত্য।ব্রাজিলের লেখক পাওলো কোয়েলহো বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত লেখক।এছাড়া মাচাদো দ্যে অ্যাসিস ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা লেখক হিসেবে সুপরিচিত।

ফুটবল খেলাই ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল ফিফা বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানীয় দল হিসেবে চিহ্নিত। দলটি এ পর্যন্ত পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়লাভ করেছে যা একটি রেকর্ড। এছাড়াও দেশটিতে ভলিবল, বাস্কেটবল, অটো রেসিং এবং মার্শাল আর্ট ক্রীড়াও ব্যাপকভাবে দর্শকপ্রিয়।

এবার আশা যাক কিছু অবাক করা তথ্যে,ব্রাজিলে লিঙ্গ পরিবর্তন এর সার্জারি সরকারিভাবে ই করানো হয় এবং তা সম্পূর্ন বিনামুল্যে। ব্রাজিলের বন্দিরা একটি বই পড়লে ৪ দিনের ছুটি মওকুফ হয়ে যায়। ব্রাজিলে মাত্র ৪৩ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্কদের হাই-স্কুল ডিগ্রি রয়েছে।ব্রজিল ই বিশ্বের বৃহত্তম কফি রপ্তানিকারক দেশ।ব্রাজিলে রয়েছে ৭০ টি উপজাতি যাদের সাথে কখনও যোগাযোগ করা ই সম্ভব হয় নি।জাপানের বাইরে ব্রাজিলে ই সবচেয়ে বেশি জাপানিদের বসবাস রয়েছে।বিশ্বের দীর্ঘতম,প্রসারিত ও অবিচ্ছিন্ন উপকূল রেখা রয়েছে ব্রাজিলে।তা প্রায় ৪ হাজার ৬ শত ৫৫ মাইল।ব্রাজিলের জাতীয় খাবার হল ফিজোয়াডা। এটি শুকনো, লবণাক্ত এবং স্মোকড মাংসের স্যুপ ব্রাজিলই প্রথম দেশ যারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছিল।ব্রাজিলের জাতীয় পানীয় ক্যাপিরিনহা। ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম সিলভা।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button