প্রযুক্তি

কাতার বিশ্বকাপে কুরআন তিলওয়াত করা কে এই বিষ্ময়কর বালক ঘানিম?

বিশ্বকাপের ৯২ বছবরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পেল মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশ।মরুর বুঁকে আয়োজন করা হলো “বিগ্যাস্ট শো অফ দ্যা আর্থ”।আয়োজনের কোন কমতি ছিল না কাতারে।মনোমুগ্ধকর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের অনেক বিখ্যাত তারকারাও।সব মিলিয়ে অসাধারণ সময় দর্শকদের উপহার দিয়েছে কাতার।ফিফার সাম্প্রতিক কর্মকান্ড বিবেচনায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেশের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা করে কাতার। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ, তাই স্মরণীয় করে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল দেশটির। সেই ভাবনা থেকেই কাতার কর্তৃপক্ষ নিজ দেশের সর্বকনিষ্ঠ উদ্যোক্তাকেই বেছে নিয়েছে। সবার নজর কাড়তেই হয়তো গানিম আল মুহতাহকে নিয়ে এসেছিল পুরো বিশ্বের সামনে।

এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে ইসলাম ও ইসলামের শিক্ষাকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে কাতার সরকার।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে করা হলো কুরআন তিলওয়াত।কুরআন তিলওয়াত করে সকলকে চমকে দেয় ঘানিম আল মুফতাহ নামে এক কাতারি যুবক,২০ বছর বয়সী এই কাতারি যুবক মঞ্চে উঠেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যান এর সাথে।তিনি কডাল সিন্ড্রোম নামে এক রোগে আক্রান্ত,জন্ম থেকেই পা নেই তার। বিশ্বে প্রায় ৬০ হাজার শিশুর মধ্যে একজনের মধ্যে দেখা যায় এই বিরল রোগ। বিরল এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীরের অর্ধেক অংশ থাকে না। ফলে অর্ধেক শরীর নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় তাদেরকে।কিন্তু এই ভয়াবহ রোগ যেন পিছু হটাতে পারে নি ঘানিম কে।নানা প্রতিকুলতাকে পেছনে ফেলে কাজ করছে মানবতার কল্যাণে।তিনি কাতারের বিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার,ইউটিবার, সমাজসেবী এবং একজন উদ্যোক্তা। অর্ধেক শরীর না থাকার বাধা বিপত্তি পেরিয়ে হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন গানিম আল মুহতাহ। হয়ে উঠেছেন কাতারের সর্বকনিষ্ঠ উদ্যোক্তা। কাতারে তিনি চালু করেছেন নিজস্ব আইসক্রিম ব্যবসা। তার অধীনে সেখানে কাজ করেন ৬০ জন। ইতিমধ্যেই ৬টি শাখা খোলা হয়েছে। গানিমের চাওয়া পুরো আরব বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ুক তার আইসক্রিম ব্যবসা।
নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।তার মতো যারা কডাল সিন্ড্রোমে আক্রান্ত তাদের উপহার দিচ্ছে হুইল চেয়ার।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছেন তিনি।এছাড়াও কাতার বিশ্বকাপে তিনি ফিফার শুভেচ্ছাদূতের ভূমিকা পালন করছে।তার উদ্দেশ্য শান্তি ও মানুষের মধ্যে ঐক্যের মাধ্যমে মাইলফলক তৈরি করা।মানবকল্যানে উৎসর্গ করতে চান নিজেকে।২০১৪ সালে কুয়েতের আমির তাকে শান্তির দূত উপাধি দেন।

ইউটিউব বা ব্যবসার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ছোট থেকেই নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন গানিম আল মুহতাহ। শরীরের অর্ধেক অংশ না থাকার পর সাধারণ মানুষের মতো ফুটবলও খেলেছেন। হাতে মোজা পড়ে সাধারণ মানুষের সাথে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। শুধু ফুটবল নয়, সাঁতার,স্কুবা ডাইভিং, হাইকিং কিংবা স্কেট বোর্ডিংয়েও সমান পারদর্শী গানিম। এখন তার ইচ্ছা কাতারের হয়ে প্যারা অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ও পদক জয়।তার নজরকাড়া পারফর্মেন্স আছে পর্বতারোহণেও। ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল শামসে পর্বতারোহণ শেষ করেছেন। জন সম্মুখে ঘোষণা দিয়েছেন তার পরের লক্ষ্য মাউন্ট এভারেস্ট জয়।

পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে গানিমের একের পর এক সাফল্যের একমাত্র গোপন রহস্য কঠোর মনোবল। সেই মনোবলের জেরেই এখন গানিমের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। হয়ে উঠছেন অনেকের আদর্শ।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button