প্রযুক্তি

ইতিহাসের সেরা দশ ধনী ব্যাক্তি

যদি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির নাম জানতে চাওয়া হয় তাহলে সবার আগে যার নামটি মনে আসে, তিনি হচ্ছেন ইলন মাস্ক। ১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এ মানুষটির মোট সম্পদের অর্থমূল্য প্রায় ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (তথ্যসুত্রঃ ফোবর্স)।কিন্তু এত সম্পত্তির মালিক হয়েও তার মোট সম্পদের পরিমাণ ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ধারেকাছেও আসে না।

ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধনী কে ছিল তা নিখুঁতভাবে বের করা কঠিন। কারণ ওই সময়ে সম্পদ গণনা করা হতো সোনা, জমি, লবণ ও ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে।

এরপরও মূল্যস্ফীতি ও বর্তমানের পণ্যমূল্য বিবেচনায় নিয়ে—এ যাবত ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী দশ ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

১. মানসা মুসা (১২৮০-১৩৩৭)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: অপরিমেয়

কখনো কি নাম শুনেছেন মানসা মুসা নামের কারো?অথচ তিনিই হচ্ছে ইতিহাসে সবচেয়ে ধনীদের তালিকায় থাকা এক নম্বর ব্যাক্তি।মানসা মুসা ছিলেন মালি সাম্রাজ্যের শাসক। যে সাম্রাজ্য বিস্তর ভূমি, লবণ ও সোনায় সমৃদ্ধ ছিল। 

ইতিহাসবিদদের ধারণা অনুযায়ী,মালি সাম্রাজ্য ছিল সোনায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলের শাসক ছিলেন রাজ্যটির শাসক ‘অপরিমেয়’ সম্পদের মালিক।সেলিব্রিটি নেট ওয়র্থ-এর হিসাবে মানসা মুসার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে,তিনি হজযাত্রায় রাজকীয় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উট চালক, ক্রীতদাসসহ প্রায় ৬০ হাজার লোক নিয়ে মালি ত্যাগ করেছিলেন। যাত্রাপথে তিনি তিন মাস কায়রোতে ছিলেন। ওই তিন মাস তিনি এত সোনা খরচ করেছিলেন যে স্থানীয় অর্থনীতিই তাতে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মানসা মুসার অকাতর সোনা খরচের কারণে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য কায়রোতে সোনার দামকে পড়ে যায়!

২.চেঙ্গিস খান (১১৬২-১২২৭)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ১২০ ট্রিলিয়ন ডলার

সর্বকালের সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য গড়েন চেঙ্গিস খান।ধারণা করা হয়, চেঙ্গিস খান এতই ক্ষমতাধর ছিলেন এবং তার মঙ্গোল সাম্রাজ্য এতটাই বিস্তৃত ছিল যে ২০০৩ সালের এক বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুসারে, তার ডিএনএ আজ প্রায় ১৬ মিলিয়ন পুরুষের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।বর্তমান অর্থমূল্যে চেঙ্গিস খানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ ট্রিলিয়ন ডলার।

৩.সম্রাট শেনজং (১০৪৮-১০৮৫)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার

মানি ডটকমের তথ্যমতে, চীনের সং রাজবংশের ষষ্ঠ সম্রাট শেনজংয়ের সাম্রাজ্যের অর্থনীতির আকার ছিল সেই সময়ে বিশ্বের মোট জিডিপির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের সমান। 

৪. সম্রাট আকবর (১৫৪২-১৬০৫)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ২১ ট্রিলিয়ন ডলার

মোগল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর দ্য গ্রেট খ্যাত জালাল-উদ-দিন মুহাম্মদ আকবর রয়েছে চতুর্থ ধনীর তালিকায়।অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের মতে, তৎকালীন এলিজাবেথান ইংল্যান্ডের সম্পদের সঙ্গে তুলনা করলেও আকবরের জীবনমাত্রার মান অনায়াসেই ইউরোপীয় সমাজকে ছাড়িয়ে যায়।মানি ডটকমের তথ্য বলছে, মোট বৈশ্বিক জিডিপিতে তার সাম্রাজ্যের অবদান ছিল ২৫ শতাংশ, যার অর্থমূল্য ২১ ট্রিলিয়ন ডলার।

৫. সম্রাজ্ঞী উ (১৬২৪-৭০৫)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার

চীনের প্রথম এবং একমাত্র নারী সম্রাট ছিলেন উ। প্রতিপক্ষের ওপর নির্মমতার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। 

অনেকের মতে, তিনি সর্বকালের সবচেয়ে ধনী নারী।সম্রাজ্ঞী উ-র শাসনকালে বিশ্বের জিডিপিতে চীনের অর্থনীতির অবদান ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ, আজকের হিসাবে যা প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার হবে। তিনি সিল্ক রোডে চা ও সিল্কের ব্যবসা করে দেশের সম্পদ গড়ে তোলেন। 

৬. জোসেফ স্ট্যালিন (১৮৭৮-১৯৫৩)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

অর্থনীতিবিদরা দাবি করেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর স্ট্যালিনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজনে পরিণত করেছে।মানি ডটকম বলছে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পদ থেকে স্ট্যালিনের সম্পদকে আলাদাভাবে দেখানো কার্যত অসম্ভব।দিঅর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর মতে, ১৯৫০ সালে বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের সাড়ে ৯ শতাংশ হতো সোভিয়েত ইউনিয়নে। বর্তমান অর্থমূল্যে এ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কাগজে-কলমে স্টালিন এ অর্থের ‘মালিক’ ছিলেন না, তবে ‘দেশের সমস্ত সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করার’ ক্ষমতা তার ছিল।

৭. অগাস্টাস সিজার (খ্রিষ্টপূর্ব৬৩-১৪ খ্রিষ্টাব্দ)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ৪.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিখ্যাত এই শাসক ছিলেন অগাস্টাস সিজার।লুক্সুওর তথ্যমতে, অগাস্টাস সিজারের সাম্রাজ্যে বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হতো। বর্তমান হিসাবে, সিজার প্রায় ৪.৬ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক ছিলেন।

৮. ক্যাথরিন দ্য গ্রেট (১৭২৯-১৭৯৬)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

তিনি ছিলেন রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী। লুক্সুও-র তথ্য অনুসারে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল বর্তমানের রাশিয়ার জিডিপির ৫ শতাংশ বা ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

৯.অ্যান্ড্রু কার্নেগি (১৮৩৫-১৯১৯)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ৩৭২ বিলিয়ন ডলার

তিনি হচ্ছেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত শিল্পপতি। মানি ডটকম এর মতে, ১৯ ও ২০ শতকের প্রথমদিকে আমেরিকান ইস্পাত শিল্পের সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিয়ে প্রায় ৩৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান সম্পদের মালিক হন।
১৯০১ সালে তিনি তার কার্নেগি স্টিল কোম্পানি জেপি মরগানের কাছে ৪৮০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। ১৯১৯ সালে মৃত্যুর সময় কার্নেগি তার উপার্জনের ৯০ শতাংশ জনহিতকর কাজে দান করে যান।

১০. জন ডি. রকফেলার (১৮৩৯-১৯৩৭)

বর্তমান হিসাবে আনুমানিক সম্পদ: ৩৪০ বিলিয়ন ডলার

তিনি একজন আমেরিকান ব্যবসায়িক ম্যাগনেট এবং জনহিতৈষী ১৮৭০ সালে স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যা ১৮৮০-র দশকের গোড়ার দিকে মার্কিন পরিশোধনাগার ও পাইপলাইনের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত বলে জানাচ্ছে হিস্ট্রি ওয়েবসাইট।
বর্তমানের হিসাবে প্রায় ৩৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ করেছিলেন।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button