জীবনী

গৌতম আদানিঃ এশিয়ার শীর্ষ এবং বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম ধনী!

আপনি কি জানেন, বর্তমানে পৃথিবীর ৩য় সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি কে! যদি না জেনে থাকেন, তাহলে আপনার জন্যে আন্দাজ করা একটু কঠিন। কারণ, সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির নাম শুনলেই আমাদের মাথায় আসে বিল গেটস, জাকারবার্গের মত বিলিয়নারদের নাম। কিন্তু না, এই লোকটি হলো ভারতীয় নাগরিক গৌতম আদানি। একজন স্কুল ড্রপ-আউট!

এই প্রথমবার এশিয়ার কোনো ব্যক্তি শীর্ষ ধনীর তালিকায় ৩য় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। শুধুমাত্র ২০২২সালে, তার সম্পত্তি বৃদ্ধি ছাপিয়ে গিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্ককেও। গত ১৬ সেপ্টেম্বর, একদিনেই আদানির সম্পদের পরিমাণ বেড়েছিলো ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার ফলে আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ঠেকেছিলো। তার সুবাদেই সেদিন কিছুক্ষণের জন্যে জেফ বেজোসকে পেছনে ঠেলে দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে গৌতম আদানির সম্পত্তির মোট পরিমাণ প্রায় ১৩৫.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মাত্র ২ বছর আগেও আদানির নাম ভারতের বাইরে কতজন শুনেছিলেন তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা যেতে পারে। কিন্তু ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি এখন বিশ্ব ধনকুবেরদের মধ্যে একজন। গত ১ বছরে তার সম্পদ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। প্রতিদিন তার সম্পদ ১ হাজার ৬১২ কোটি রুপী বেড়েছে।

কী ভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন আদানি! 

ভারতের গুজরাটে ১৯৬২ সালে জন্ম নেন গৌতম আদানি। ভারতের আদানি গোষ্ঠীর বর্তমান চেয়ারম্যান তিনি। তিনি আহমেদাবাদের সিএন বিদ্যালয় -এর বাণিজ্যের ছাত্র থাকলেও পড়াশোনা শেষ করেননি। তার পরিবারের ছিল পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসায়। কিন্তু সেই ব্যবসায়ে যোগ না দিয়ে হিরে ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। মাত্র ২০ বছর বয়সেই আদানির নিজের সম্পত্তির পরিমাণ ছিল কোটি টাকা।

সম্প্রতি সিমেন্ট ব্যবসায় পা রেখেছে আদানি গ্রুপ। ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে সুইস সিমেন্ট সংস্থা হোলসিমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেন আদানি। ভারতে হোলসিমের সিমেন্ট ব্যবসায়ের অধিগ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, এরপরই আম্বুজা ও এসিসি সিমেন্ট কোম্পানি কিনে নিয়েছেন আদানি। যার ফলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক গোষ্ঠীতে পরিণত হলো আদানি শিল্পগোষ্ঠী। যা ভারতে সিমেন্ট ব্যবসায়ের ভোল পালটে দেবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। তবে এসব ব্যবসায় শুধু ভারতে নয়, আদানি গ্রুপ মালিকানাধীন আদানি শিল্পগোষ্ঠীর সাম্রাজ্য এখন আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এমনকি বাংলাদেশেও রয়েছে তার বিনিয়োগ।

গত কয়েক বছর ধরেই হু হু করে বেড়েছে আদানির সম্পত্তির পরিমাণ। আদানি গ্রুপের অধীনে রয়েছে মোট ৭টি কোম্পানি। সিমেন্ট ছাড়াও এয়ারপোর্টস, ডেটা সেন্টার, পেট্রোকেমিক্যাল সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে আদানি গ্রুপ। আর তার ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে রিলায়েন্সের মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির মুকুট ছিনিয়ে নেন আদানি। 

২০২২ সালে, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হওয়ার পর থেকে, তিনি প্রতিদিন নতুন উচ্চতা ছুঁয়ে ফেলছেন। তার সম্পত্তি বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত আদানির সম্পত্তির পরিমাণ ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় যারা ১০ নম্বরে আছেন, চলতি বছর তাদের মধ্যে কারও সম্পদ এত বৃদ্ধি পায়নি। তার ফলে বছরের শুরু থেকেই আদানি তুখোড় ছন্দে ব্যাটিং করছেন।

আদানি গ্রুপ যে পরিমাণ অর্থ লাভ করে, তার ৩% আয় জনহিতকর কাজে ব্যয় করেন। আহমেদাবাদে আদানি বিদ্যা মন্দির স্কুলে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের বাচ্চাদের বিনামূল্যে পড়াশোনা করানো হয়।

তবে মানুষের জীবন তো আর সবসময় এক গতিতে চলে না। কথায় আছে, যত টাকা বেশি, তত সমস্যা বেশি। আদানিও তার ব্যতিক্রম নয়। আশ্চর্যজনক ভাবে দুইবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে অপহরণ এবং ২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। টাইমস নিউ অনুসারে, ১৯৯৭ সালে বন্দুকের মুখে তাকে অপহরণ করে ১.৫ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপন চাওয়া হয়। আদানি বলে থাকেন, তার জীবনের ২টি বা ৩টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার মধ্যে এটি একটি। অন্যদিকে ২০০৮ সালে, তাজমহল প্যালেস হোটেলের একটি রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন সন্ত্রাসীরা ওই হোটেলসহ মুম্বাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায়। পরে সেনাবাহিনী ভবনটিতে আক্রমণ করলে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button