জীবনীসাম্প্রতিক

মাসুদ রানা থেকে আজকের শাকিব খান!

ঢালিউডের সুপারস্টার বললেই সবার আগে মাথায় আসে শাকিব খানের নাম। বর্তমানে বলতে গেলে একাই চলচ্চিত্র অঙ্গন কাপাচ্ছেন এই জনপ্রিয় নায়ক।

কিন্তু এই শাকিব খানের শাকিব খান হয়ে উঠার পিছনের গল্প টা অনেকের ই অজানা।

১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরের রাঘদীতে একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শাকিব খান। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা এবং মাতা একজন গৃহিণী। তার জন্মগত নাম মাসুদ রানা। নামের প্রভাবেই কী না কে জানে, ক্লাস নাইনে থাকতে মার্শাল আর্টের ভক্ত হয়ে পড়েন তিনি। নারায়ণগঞ্জে বাড়ির পাশে কেল্লার মাঠে মার্শাল আর্টে ভর্তিও হয়ে যায়। কিন্তু এসএসসির পর কিছু বন্ধুকে ভালো নাচতে দেখে নিজেও উৎসাহী হন নাচে। খুঁজতে থাকেন নাচের ক্লাস।

১৯৯৫ সালে, নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজার সঙ্গে পরিচয় হয় নারায়ণগঞ্জে বেড়ে ওঠা মাসুদ রানার। তার মাধ্যমেই এফডিসিতে প্রবেশ করেন মাসুদ রানা। পরিচিত হন বেশ কয়েকজন চিত্রনির্মাতার সঙ্গে। ছোট বেলায় শাকিব খান এর ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর হঠাৎ করেই যেন ছোটবেলার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকল। বলা চলে মনের অজান্তেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক চলে আসে তার। 

এটা ১৯৯৯ সালের কথা। শাকিল খানের সঙ্গে বিরোধের কারণে নতুন নায়ক খুঁজছিলেন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। কাকতালীয়ভাবে পেয়ে যান মাসুদ রানাকে। চুক্তিবদ্ধ করেন ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমায়। এ সিনেমার শুটিংয়ে মাসুদ রানার নাম বদলে দেন পরিচালক সোহান। মাসুদ রানা হয়ে যান শাকিব খান।

শাকিব খান অভিনীত প্রথম ছবি ‘অনন্ত ভালোবাসা’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রের আরেক অভিনয় শিল্পী মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন। যদিও তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ ছবির মাধ্যমে। ছবিতে তার নাম ছিল ‘মশাল’। এই ছবির শুটিং শেষ না হতেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের পরিচালক প্রযোজকদের মাঝে। সবাই প্রশংসা করতে থাকে তার ফাইটিং দক্ষতা, দুর্দান্ত নাচ, সুন্দর চেহারা আর ভালো অভিনয় নিয়ে। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল নায়কের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান শাকিব খান।

ছবি হিসেবে ‘অনন্ত ভালবাসা’ খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এমনি করেই ঢালিউডের বর্তমান সুপারস্টার শাকিব খানের চলচ্চিত্র জীবনের বীজ বপন হয়ে যায়। পুরো ইন্ডাস্ট্রি একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন আপন ক্যারিশমায়। এছাড়াও বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ প্রযোজনায় এখন পর্যন্ত শাকিব খানের বেশ কয়েকটি ছবি নির্মিত হয়েছে। শাকিব খানের যে সিনেমাগুলো বড় বাজেটের এবং সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলো সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – পূর্ণধৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি, শিকারি, নবাব, রাজনিতি সত্তা, চালবাজ, নাকাব, ভাইজান এলোরে, মনের জালা ইত্যাদি।

শাকিব খান একমাত্র অভিনেতা, যার আয়কে আন্তর্জাতিক মানে বিচার করা যায়। ছবি প্রতি তিনি সম্মানী নেন ৩৫ লাখ টাকার বেশি। সে হিসাবে তার প্রতিদিন গড় আয় ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকার বেশি। অর্থাৎ খান সাহেবের প্রতি সেকেন্ডের মূল্য এখন ১ টাকা ৭০ পয়সার অধিক। সিনেমার নায়ক হতে চটি ক্ষয় করার যে প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে-তা শাকিব খানের ক্ষেত্রে কাহিনী নয়, বাস্তব। তিনি জানান, অনেক কষ্ট করে আজ তিনি এ অবস্থানে এসেছেন। 

ক্যারিয়ারের প্রায় ২৩ বছর পার করে এসেছেন শাকিব খান। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি জন্ম দিয়েছেন নানা বিতর্কের। প্রথমবারের মত ২০০৮ সালে, ঢালিউডের কুইন অপু বিশ্বাস এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি ।দীর্ঘ ৯ বছর সে খবর লুকিয়ে রাখেন। ২০১৬ সালে, কলকাতায় গিয়ে ছেলে আব্রাম খান জয়ের জন্ম দেন অপু বিশ্বাস। লুকিয়ে রাখা হয় সে খবরও। পরে ২০১৭ সালে, একটি টিভি চ্যানেলে হাজির হয়ে সবকিছু প্রকাশ করেন অপু বিশ্বাস। শোনা যায়, ওই সময় চিত্রনায়িকা বুবলীর সঙ্গে শাকিব খানের প্রেম-রসায়ন তুঙ্গে। সে কারণেই তড়িঘড়ি সন্তান নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন অপু বিশ্বাস। যার ফলে তাদের দাম্পত্য জীবন বেশিদিন লম্বা হয় নি। ২০১৭ সালে, তাদের বিচ্ছেদ হয়। 

তবে সম্প্রতি শাকিব খান এবং চলচ্চিত্র নায়িকা শবনম বুবলী কে নিয়ে আরেকটি গুঞ্জনের শুরু হয়। কিছুদিন আগে বেবিবাম্পের ছবি পোস্ট করে হইচই ফেলে দেন বুবলী। সন্তানের বাবা কে? সন্তান অদৌ জন্ম হয়েছে কিনা এ বিষয়ে উঠে প্রশ্ন। শাকিব খান ও শবনম বুবলীকে নিয়ে অনেক গুঞ্জনই ডালপালা মেলে। 

সব গুঞ্জন উড়িয়ে অবশেষে তাদের সন্তান শেহজাদ কে প্রকাশ্যে আনেন তারা। যদিও কবে কোথায় শাকিব খান ও বুবলীর বিয়ে হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ পায়নি। এরপর অপু বিশ্বাসের মতো বুবলীও দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ছেলে শেহজাদ খান বীরের জন্ম দেন। যা সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া বুবলীর সঙ্গেও নাকি গত বছর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তার। যদিও এ খবরের কোনো সত্যতা মেলেনি।

এছাড়াও এই ঘটনার পর, চিত্রনায়িকা রাত্রি দাবি করেন, শাকিব খান ও রাত্রীর বিয়ে হয় ২০০৮-৯ সালে। তখন একটি জাতীয় দৈনিকে তাদের বিয়ের খবর ছবিসহ প্রকাশ পায়। সেখানেও একটি ছেলের জন্ম দিয়েছেন তিনি। যদিও শাকিব খান সেই বিয়ে অস্বীকার করেন।

বাংলাদেশের এই সুপারস্টার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ছাড়াও ৪ বার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button