জীবনী

যে কারণে বলিউডের গ্ল্যামারাস জগৎ ছেড়ে ইসলামের পথে এসেছেন অভিনেত্রী সানা খান!

বলিউডের ঝলমলে দুনিয়াকে হঠাৎ বিদায় দিয়ে ইসলামের পথে চলতে শুরু করেছেন যে কজন অভিনেত্রী তাদের মধ‍্যে সবথেকে উল্লেখযোগ‍্য নাম ‘সানা খান’। ইন্ডাস্ট্রির অন‍্যতম আলোচিত অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। 

২০০৫ সালে, ‘ইয়ে হ্যায় হাই সোসাইটি’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় সানা খানের। এর পর বলিউডে ‘ওয়াজাহ তুম হো’, ‘হাল্লা বোল’, ‘এক প্রেম কথা’ এবং ‘জয় হো’সহ  একাধিক বলিউড সিনেমায় অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন সানা। সালমান খানের রিয়েলিটি শো বিগ বস ৬-এ জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিলেন। এছাড়া ‘ফেয়ার ফ্যাক্টর : খাতরোঁ কে খিলাড়ি’র ষষ্ঠ মৌসুমেও অংশ নিয়েছিলেন। ক্যারিয়ারে হিন্দি, মালয়ালাম, তামিল, কন্নড় ও তেলেগু ভাষার সিনেমায় দেখা গেছে সানা খানকে। ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন সানা। 

কিন্তু ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকাকালীন ২০২০ সালের অক্টোবরে, হঠাৎ করেই ১৫ বছরের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। রাতারাতি হিজাব গ্রহণ করার পর, এক মাসের মধ্যেই গুজরাটের ব্যবসায়ী মুফতি আনসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পরেই নিজের নামে বদলে রাখেন সইয়াদ সানা খান। কিছুদিন আগে তিনি জীবনের প্রথম হজ পালন করছেন স্বামীর সঙ্গে।

তার এই বিপুল পরিবর্তন স্বাভাবিক ভাবেই নজর কেড়েছিল সবার। নাম, খ্যাতি, অর্থ এবং শোবিজ ছেড়ে কেন হঠাৎ করে ধর্মকর্মে আত্মনিয়োগ করেছেন সানা? তা জানার জন‍্য কৌতূহলী হয়েছিলেন অনেকেই। এমনকি কয়েকজন এমনো মন্তব‍্য করেছিলেন, প্রাক্তন প্রেমিক ধোঁকা দিতেই বলিউড ছেড়েছিলেন সানা। দু বছর মুখে কুলুপ এঁটে রাখার পর অবশেষে মুখ খোলেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সানা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, পার্থিব এসব যশ, খ্যাতি, অর্থ তাকে শান্তি এনে দিতে পারেনি। সেই শান্তি পেতেই শোবিজ ছেড়ে ধর্মে মনোযোগী হয়েছেন।

ওই ভিডিওবার্তায় সানা খান জানান, অতীত জীবনে খ্যাতি, নাম অর্থ সব ছিল তার। কোনো কিছুর কমতি ছিল না, যা চেয়েছিলেন সব কিছুই করতে পারছিলেন।  কিন্তু সবকিছু থাকা সত্ত্বেও খুশি ছিলেন না তিনি। তার সময়টা খুব কঠিনভাবে যাচ্ছিল। হতাশায় দিন কাটত। এতসব কিছু থাকার পরও একটি জিনিসের অনুপস্থিত বোধ করছিলেন সেটি হলো ‘শান্তি’। কোনো কিছুতেই সেই সময় হৃদয়ে শান্তি মিলছিল না।

এ সাবেক অভিনেত্রী আরো জানান, ২০১৯ সালের রমজান মাসে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অসুস্থতার কারণে তখন মানসিক অবসাদে ভুগতেন। ওই সময়েই সংকেতের মাধ‍্যমে আল্লাহর বার্তা দেখতে পেতেন তিনি।

এই ব্যাপারে সানা বলেন, ওই রমজান মাসে তিনি প্রায়ই স্বপ্নে একটা জ্বলন্ত কবর দেখতে পেতেন। আর সেই জ্বলন্ত কবরের মধ‍্যে নিজেকে শুয়ে থাকতে দেখতেন। কবরে বারবার নিজেকে দেখছেন, এই স্বপ্ন তার কাছে আল্লাহর কোনো বিশেষ বার্তা বলে মনে হয়। তিনি অনুভব করেন, আল্লাহ তাকে যে চিহ্ন দিচ্ছেন তাতে যদি তিনি নিজেকে পরিবর্তন না করেন, তবে তার পরিণতি এটিই হবে। আর এ বিষয়টিই তাকে উদ্বিগ্ন করে ও ধর্মের পথে পরিচালিত করে। তিনি নিয়মিত অনুপ্রেরণামূলক ইসলামিক বক্তৃতা শুনতে শুরু করেন। আর একদিন রাতে খুব সুন্দর একটা বই পড়েছিলেন তিনি। যেখানে লেখা ছিল, “তুমি চাইবে না যে তোমার শেষদিনটাই তোমার হিজাব পরার প্রথম দিন হোক”। ওটা তার মনের গভীরে গিয়ে ছুঁয়েছিল।

পরের দিন ছিলো তার জন্মদিন। সকালে তিনি জেগে উঠে একটা স্কার্ফ পরেন এবং নিজেকে বলেন, ‘এই স্কার্ফ আমি আর কখনো সরাব না।’ এর পরই তিনি শোবিজ ছেড়ে দেন এবং এক রাতে খুব সুন্দর কিছু পড়ছেন— এমন স্বপ্ন দেখেন 

ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে সানা লিখেছেন, ”কয়েকদিন ধরেই আমার মনে একটাই প্রশ্ন বারবার জেগেছে, মানুষ কেন এই পৃথিবীতে আসে? শুধুই কী টাকা, নাম, যশ, সম্মান পাওয়ার জন্য? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে? মানুষের জন্য জীবনে কিছু করাটা কি আমাদের কর্তব্য নয়? অভিনেত্রীর লিখেছেন, ”মানুষের কি ভাবা উচিত নয়, যেকোনও সময় তাঁদের জীবনেও মৃত্যু আসতে পারে। মানুষের ভাবা উচিত, মৃত্যুর পর আমাদের সঙ্গে কী হতে পারে? আমার মৃত্যুর পর ঠিক কী হবে আমার সঙ্গে? আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমি যখন আমার ধর্মে এর উত্তর খুঁজলাম, বুঝলাম, জীবন আসলেই মৃত্যুর পরবর্তীকালের জীবনকে ভালো করার জন্য। তাই আমি ধর্ম সাধনা করে এই পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

সিনেমা ছাড়লেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় সানা। তবে নিয়মিত হাজির হন হিজাব পরে। ভক্ত-অনুরাগীদের দেন নানা ধর্মীয় বার্তা।

সবার কাছে দোয়া চেয়ে পোস্টে সানা খান অনুরোধ করেন, কেউ যেন তাকে আর পুরোনো পেশায় টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করেন। কোনো কাজের জন্য না বলেন।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also
Close
Back to top button