জীবনী

বহুমাত্রিক অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদের জীবনী!

মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক ও সিনেমার প্রখ্যাত একজন অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ। ষাটের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় একজন নায়িকা ছিলেন তিনি। যিনি বয়সকে তুড়ি মেরে প্রায় ৫ দশক ধরে বিরতিহীন ভাবে অভিনয় করে গেছেন। 

শর্মিলী আহমেদের প্রকৃত নাম মাজেদা মল্লিক। ১৯৪৭ সালের ৮ মে, মুর্শিদাবাদের বেলুর চাক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।  রাজশাহী পিএন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। তার পিতার নাম তোফাজ্জল হোসেন। শর্মিলী আহমেদের স্বামীর নাম রকিবউদ্দিন আহমেদ। যিনি পেশায় একজন পরিচালক ছিলেন। এই দম্পতির তানিমা আহমেদ নামের একটি মেয়ে আছে। শর্মিলী আহমেদের ছোট বোন ওয়াহিদা মল্লিক জলি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

মাত্র ৪ বছর বয়সেই মঞ্চে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এছাড়াও রাজশাহী বেতারের শিল্পী ছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালে, প্রাথমিক ভাবে বেতারের মাধ্যমেই ক্যারিয়ার শুরু করেন শর্মিলী। পরবর্তীতে ষাটের দশকের দিকে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করেন শর্মিলী। যদিও ১৯৬৪ সালে নির্মিত তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘ঠিকানা’ (যেটি উর্দু ভাষায় নির্মিত হয়েছিলো) আলোর মুখ দেখেনি। তবে সুভাষ দত্তের ‘আলিঙ্গন’, ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ এবং ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। এছাড়াও তার স্বামী রকিবউদ্দিন আহমেদের নির্মিত ‘পলাতক’ ছবিতে অভিনয়ে করে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে বেশ কিছু উর্দু ভাষার সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। স্বাধীনতার পর ‘রূপালী সৈকতে’, ‘আগুন’, ‘দহন’-এর মতো জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্রে ছিল তার সরব উপস্থিতি।

এছাড়াও শর্মিলী আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—’মালঞ্চ”,  ‘পৌষ ফাগুনের পালা’, ‘মেহেরজান’, ‘আবার হাওয়া বদল (২০১৪)’, ‘বৃষ্টির পরে (২০০৫)’, ‘আমাদের আনন্দ বাড়ি (২০০৫)’, ‘আঁচল (২০০৬)’, ‘আগন্তুক (২০০৫)’, ‘ছেলেটি (২০১১)’, ‘উপসংহার (২০১০)’ ইত্যাদি।

শুধু চলচ্চিত্র অঙ্গনেই নয়, বাংলা নাটকেও দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন এই প্রখ্যাত অভিনেত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘দম্পতি’ তে অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ নাটক ও ১৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী এ অভিনেত্রী।

মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রে সাবলীল অভিনয় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে শর্মিলী আহমেদ ছিলেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। পরবর্তীকালে ছোট পর্দার মা, দাদি কিংবা ভাবির চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়জীবনে মায়ের চরিত্রে এত বেশি অভিনয় করেছেন যে, বিনোদন অঙ্গনে তিনি সবার কাছে ‘মা’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সবাই তাঁকে ‘শর্মিলী মা’ বলেই ডাকত।

তবে একজন অভিনেত্রী এবং একজন মা—দুই জায়গাতেই সফল ছিলেন শর্মিলী আহমেদ। অভিনয় ও সংসার; দুটিই চমৎকার ভাবে সামলেছেন তিনি। শুটিংয়ে যেমন তিনি সময় দিয়েছেন, তেমনি পরিবারের প্রতিটি কাজের দিকে খেয়াল রেখেছেন। তার কাছে প্রায়োরিটির দিক থেকে আগে ছিলো পরিবার, তারপর কাজ। এ কারণে পরিবারের সদস্যরাও সব সময়ই অভিনয়ে সহযোগিতা করেছেন তাকে। প্রথম দিকে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব কম থাকলেও মা হওয়ার পর দায়িত্ব বেড়ে যায়। যার ফলে সে সময়ে অভিনয় কমিয়ে দেন তিনি। 

মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের গুণী অভিনয়শিল্পী শর্মিলী আহমেদ গত ৮ জুলাই শুক্রবার, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ ২৯ নম্বর কেমো দেওয়া হয় তাকে। জানা গেছে, মৃত্যুর সময় শর্মিলী আহমেদের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। শর্মিলী আহমেদের অনুপস্থিতি শোবিজ অঙ্গনের জন্য এক অপূরনীয় ক্ষতি।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button