আন্তর্জাতিক

রাশিয়ায় বাড়ছে ইসলাম ধর্মের প্রসার

আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ায় বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা। দিন দিন ইসলাম ধর্মের দিকে ঝুঁকছে দেশটির জনগন। বর্তমানে রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫% ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, সপ্তম শতাব্দীতে রাশিয়ায় ইসলামের আগমন ঘটে। নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ইন্তেকালের ২২ বছর পরে তার অনুসারীরা রাশিয়া এসেছিলেন। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে রাশিয়ায় ইসলামের জাগরণ বেড়েছে।

রাশিয়ায় ইসলাম ধর্মের অবস্থান নিয়ে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া বলছে, ইসলাম রাশিয়ার চারটি প্রধান ধর্মের মধ্যে অন্যতম। শুরু থেকেই রাস এবং এর উত্তরসূরি রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবেশী, শাসক বা প্রজা হিসেবে মুসলিমদের সংস্পর্শে এসেছে। মুসলিম ভূমিসমূহ থেকে দূরপাল্লার রৌপ্য বাণিজ্য প্রথম রুশ রাষ্ট্রসমূহ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এবং খ্রিস্টধর্মের পূর্বে ইসলাম ধর্ম রুশ ভূমিতে পৌঁছায়।

রাশিয়ায় নর্থ কাউকাসুস ও তাতারাস্তান অঞ্চল দুটি দেশটির মুসলিম প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আর এই দুই প্রজাতন্ত্রে উচ্চহারে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার জনপরিসংখ্যান রিপোর্ট। এছাড়াও রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ইয়েকাতেরিনবার্গ মুসলিমদের আধিক্য রয়েছে। এসব অঞ্চলে মধ্য এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে অভিবাসী হিসেবে আসা মুসলমানের সংখ্যাই বেশি।

১৯৯৭ সালে, রুশ সংবিধানে খ্রিস্টধর্ম, বৌদ্ধধর্ম এবং ইহুদিধর্মের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মকেও রাশিয়ার ‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে’র অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির নিম্নকক্ষে ‘স্টেট ডুমা’ আয়োজিত এক ফোরামে দেশটির অর্থোডক্স চার্চের প্রধান যাজক দিমিত্রি স্মির্নভ জানান, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ ই হবে মুসলিম। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে মুসলিমরাই হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী। 

এই মতামতের পিছনেও যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। ১৯৯১ সালে, সোভিয়েত রাশিয়ায় ছিল ৩০০টি মসজিদ আর এখন ৮ হাজারেরও বেশি মসজিদ আছে। আরও নতুন মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে। ১৯৯১ সালের আগে রাশিয়াতে কোনো মাদরাসা ছিল না। আর এখন ৫০-৬০টি মাদরাসা আছে এবং সেগুলোতে কমপক্ষে ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করছে। রাশিয়া থেকে এখন প্রায় ২০ হাজারের মতো মুসলমান হজ পালন করতে সৌদি আরব গমন করেন।

এছাড়াও সম্প্রতি মস্কোর একটি সম্মেলনে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি শেখ রবিন জাইনুদ্দিন জানান, রাশিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। 

তিনি ধারনা করছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ ই হবে মুসলিম। তার ভাষ্যমতে, ২০১৯ সালে ঈদের সময় তিন লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মুসলমান মস্কোর মসজিদগুলোতে নামাজ আদায়ের জন্য এসেছিলেন। যেটি ছিল একটি রেকর্ড।

ওই বছরের তুলনায় দুই ঈদ, রমজানের তারাবি ও শুক্রবারের দিন জুমার নামাজ আদায়কারীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে জাইনুদ্দিন বলেন, এটি দেশের মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার সূচক।

২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট জনসংখ্যা ছিল ১৪৬.৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৪ মিলিয়ন, যা রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। এছাড়াও রাশিয়ার ১৮২টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৭টি আদিবাসীই ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

রাশিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ দু’টি। একটি হচ্ছে- মুসলমান পরিবারে জন্মহার বেশি এবং অপরটি হচ্ছে এশিয়া থেকে মুসলমানরা দেশটিতে আসছে।

তবে এই ইস্যুতে বর্তমানে একটি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে দেশটি। যে হারে মুসলিম সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছেনা রাশিয়ায়। আর এ কারণে নামাজ আদায়ে মসজিদের সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে। নামাজ আদায়ে আরও অনেক মসজিদ নির্মাণ করতে হবে জানিয়ে গ্র্যান্ড মুফতি রাভিল জাইনুদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে রাশিয়ার মসজিদগুলোতে প্রায় ৩২ লাখ মুসলিম অংশগ্রহণ করেছে। এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেভাবে মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তাই রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে অধিক পরিমাণে মসজিদ নির্মাণ জরুরি বলে ভাবছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button