প্রযুক্তিসাম্প্রতিক

সুলতান গুস্তাফ আল ঘোজালিঃ সেলফি তুলে মিলিয়নিয়ার যে ইন্দোনেশিয়ান বালক

মানুষের শখের শেষ নেই। কারও যদি শখ হয় কয়েন জমানো, কারওবা ডাকটিকিট জমানো, কারো কারো আবার শখ সেলফি তোলা। 

কোথাও বেড়াতে গেলে কিংবা কোনো নতুন পোশাক পরলে। অনেকেই একটি সেলফি তুলে নেয় নিজেকে কেমন লাগছে দেখতে। আবার কোনো নতুন খাবার চেখে দেখার আগে সেটির সঙ্গে সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অনেকে। বেশিমাত্রায় সেলফি তোলার প্রবণতা অনেককে বিপদেও ঠেলে দিয়েছে। তবে সেলফি তুলেই কেউ কোটিপতি হয়ে যেতে পারে তা ভাবতে গেলে একটু অবিশ্বাস্য ই মনে হয়।

কিন্তু এমনই ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার জাভার বাসিন্দা তরুণ সুলতান গুস্তাফ আল ঘোজালির সঙ্গে। নিজের সেলফি বিক্রি করে মাত্র পাঁচদিনে কোটিপতি বনে গেছেন এই তরুণ। অবাক হলেও ঘটনা সত্যি।

ঘটনার শুরু ২০১৭ সালে। তখন ঘোজালি ১৮ বছরের এক বালক। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কম্পিউটারের সামনে বসে প্রতিদিন নিজের ছবি তুলতেন এই কলেজছাত্র। ভিডিও করার আগে নিজেকে দেখার জন্যই মূলত তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এই কাজ করতেন।

কিন্তু কখনো ভাবেননি নেহায়েত শখের বসে তোলা এই সেলফি কপাল খুলে দেবে তার। পাঁচ বছর পর এখন তার এই সেলফিগুলো লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঘোজালি তার সেলফি বিক্রি করতে শুরু করেন এ বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে সেলফি বিক্রি করে কোটিপতি হয়ে যান তিনি।

মূলত সেলফিগুলোকে নন ফাঙ্গিবল টোকেন (এনএফটি) তে রূপান্তরিত করার পর সেগুলো ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় আড়ে আট কোটি টাকার বেশি) দামে বিক্রি করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুলতান গুস্তাফ আল ঘোজালি ইন্দোনেশিয়ার সেমারাং শহরের কেন্দ্রীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি সেলফি তুলে আসছেন। তার ইচ্ছা ছিল এক হাজার সেলফি জমিয়ে সেগুলো দিয়ে গ্রাজুয়েশনের দিন একটা টাইমলাপস ভিডিও তৈরি করবেন।

ক্রিপটোকারেন্সি সম্পর্কে জানার পর ২২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী এএফটিতে তার ছবি আপলোড করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর ‘ঘোজালির প্রতিদিন’ শিরোনামে ছবিগুলো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন।

নিছক মজার ছলেই সেলফিগুলো আপলোড করেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন কেউ এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাবে না। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে একজন ঘোজালির সেলফি সংগ্রহ করেন।

পরবর্তীতে ঘোজালি এক হাজারের মতো ছবি বিক্রির জন্য পোস্ট করেন। প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন মাত্র ০.০০০০১ ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথার (তিন ডলার)। তবে হঠাৎ করেই তার ছবি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপরই তার ছবির দাম হু হু করে বেড়ে যায়।

এভাবে একে একে তার ৩১৭টি সেলফি বিক্রি হয়ে যায়। ঘোজালির পকেটে ওঠে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি।

ঘোজালি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, তার ছবি মানুষ এত দাম দিয়ে কিনছে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, কোনো সংগ্রাহক তার সেলফি সংগ্রহ করলে সেটা মজার একটা জিনিস হবে। তারপরও তিনি কখনই ভাবতেই পারেন নি কেউ তার সেলফি কিনতে চাইবে।

আর এ কারণেই তিনি সেগুলোর দাম মাত্র তিন ডলার রেখেছিলেন। কিন্তু পরের দিন চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর একেকটি সেলফি থেকে ০.২৪৭ ইথার (৮০৬ ডলার) দাম পাওয়া যায়। মাত্র পাঁচ দিনে চার শতাধিক মানুষ তার অভিব্যক্তিহীন ছবি কিনেছে।

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ঘোজালির সেলফি বাবদ মোট আয়ের পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে ঘোজালি এখনো তার বাবা-মাকে বলার সাহস পাননি যে তিনি এতো টাকা কীভাবে আয় করছেন। তারাও ভেবে পাচ্ছেন না ঘোজালি কোথায় পেল এত টাকা!

তবে জানা গেছে, অনেক সেলিব্রিটি ঘোজালির সেলফি বিক্রিতে অনেক সাহায্য করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার অনেক সেলিব্রিটি তার ছবি প্রচার করেছেন। আর এতেই আরও বেড়েছে সেলফি বিক্রির সংখ্যা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে ঘোজালি জানান, নিজের একটি অ্যানিমেশন স্টুডিও খোলার ইচ্ছা আছে তার। এই অর্থ সেই স্বপ্ন পূরণেই ব্যয় করবেন। এছাড়া পড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সেলফি তোলা চলবে বলেও জানিয়েছেন ।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button