আন্তর্জাতিকপ্রযুক্তি

বেঞ্জামিন আহমেদঃ মাত্র ১২ বছর বয়সেই কোটিপতি বনে যাওয়া বিস্ময় বালক

প্রতিভা প্রমাণ করতে যেমন কোনো বয়সের প্রয়োজন নেই, নেই তেমন কোনো দামি ডিগ্রির ও। কোন কাজ দক্ষতা এবং মন থেকে করলে সেই কাজটি এমনিতেই প্রতিভায় পরিণত হয়। এবার এই জিনিসটাই প্রমান করে দেখালেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী বেঞ্জামিন আহমেদ। 

করোনা মহামারিতে কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কারও বা ব্যবসায়ের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুল, কলেজ, অফিস এমনকি দোকানপাটও বন্ধ ছিল। বেশিরভাগ সময় মানুষকে বাড়ি বসে কাটাতে হয়েছে। বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ১২ বছর বয়সী এই কিশোর এমন একটি জিনিস বানিয়ে ফেলে, যার মূল্য টাকায় হিসেব করলে ২ কোটিরও বেশি দাঁড়ায়। আর সেই জিনিস টির নাম সে দিয়েছে “অদ্ভুত তিমি”। 

শুধুমাত্র তিমির নিদর্শন তৈরি করেই মাত্র ১২ বছর বয়সেই কোটিপতি বনে গেছেন এই বালক! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

বেঞ্জামিন আহমেদ লন্ডনে থাকেন। তার বাবা পেশায় একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। তিনি খুব ছোটবেলা থেকেই বেঞ্জামিন এবং তার ভাইকে কোডিং শিখতে মোটিভেটেড করেন। ফলে ওই বয়সেই তার কোডিং এর প্রতি আগ্রহ জন্মায়। বেঞ্জামিন মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই কোডিং শেখা শুরু করে। এরপর সে সিদ্ধান্ত নেয় নিজেই তা বানাবে। যেই বলা সেই কাজ। 

অবশেষে সে তার অবসর সময়ে ডিজিটাল হোয়েল বা তিমি বানিয়ে ফেলে। জানা যায়, “Weird Whales” বা “অদ্ভুত তিমি” নামের একটি পিক্সেল করা আর্টওয়ার্ক তৈরি করেছে বেঞ্জামিন। ৪০ টি নানা রঙের পিক্সেলেটেড অবতার সংগ্রহ করে ওই বালক বানিয়েছে ডিজিটাল আর্ট কালেকশন। যার নাম ‘মাইনক্রাফট ইয়ে হা’। তার কয়েকমাস পরেই ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই বিস্ময় বালক। রঙবেরঙের এই তিমি স্রেফ এক ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে যায়। তার হাতে তৈরি ডিজিটাল ক্রাফট ‘অদ্ভুত তিমি’ সংগ্রহ প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি দামে বিক্রি হয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে এই বালকের। প্রায় ৭.৫ লাখ ইউরো রোজগার করে বেঞ্জামিন। 

বেঞ্জামিন দ্য টেলিগ্রাফকে জানায়, “আমি একজন পেশাদার শিল্পী নই, কিন্তু আমি ইউটিউবে কয়েকটি ভিডিও দেখেছি এবং তারপর বের করেছি কীভাবে একটি তিমি পিক্সেলেটেড আঁকা যায়।”

মিরর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বেস আঁকতে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করতে তার কয়েক সপ্তাহ লেগেছিল এবং তারপরে তিমি তৈরি করতে সক্ষম হয় সে।

জুলাই মাসে অনলাইনে তা বিক্রির পর, বেঞ্জামিন তার তিমির সংগ্রহটি মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি করতে সক্ষম হয়। যা ১২ বয়সী কিশোরের দ্বারা দ্বিতীয় এনএফটি সংগ্রহ।

এর আগে, প্রথমবার ‘মাইনক্রাফট’ গেম বানিয়ে ছিলেন বেঞ্জামিন। কিন্তু এর জন্য খুব একটা মূল্য তিনি পাননি। এইবার তিনি ‘অদ্ভুত তিমি’ নামে এই বিশেষ শিল্প তৈরি করেন। এতে তার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জানা আয়, এই পুরো শিল্পকর্মের জন্য বেঞ্জামিনকে খরচ বহন করতে হয়েছিল ৩০০ ডলার। যেটা ভারতীয় মূল্য ২২ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে তিনি সুপারহিরো থিমযুক্ত শিল্পের উপর কাজ করবেন। তার একটি ইউটিউব চ্যানেলও রয়েছে।

২০২১ সাল অব্দি আহমেদের নিজের কোনো ব্যাংক  অ্যাকাউন্টও ছিল না। সেখানে এই বয়সেই এই বিপুল রোজগার সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ক্রিপ্টো-মাহাত্ম্য যে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে- তাও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে গোটা বিশ্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ভার‍ত কিংবা আমেরিকা কেউই ক্রিপ্টো বাণিজ্যে পিছিয়ে নেই।

যারা জানেন না, তাদের জন্যে বলে রাখি। এনএফটি হল শিল্প এবং ডিজিটাল জগতের সংমিশ্রণ। যখন শিল্প ডিজিটাল জগতে ইনস্টল করা হয়, তখন এটি এনএফটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনলাইনে বেচা কেনা হয়।

অদ্ভুত তিমি’ শিল্পকর্মটি পিকসার্ট আর্টওয়ার্ক বলা হয়ে থাকে। এর বাজারে মূল্য অনেক বেশি। বেঞ্জামিন ডিজিটাল আর্টিফ্যাক্টগুলি এনএফটি’র কাছে বিক্রি করেছেন। এটি মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সি মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে এবং যার বিনিময়ে ইথিরিয়াম পেয়েছে তিনি।

বেঞ্জামিন এর বাবা জানায়, তার দুই সন্তান খুব ছোট বয়স থেকেই কোডিং শেখা শুরু করেছিল, আনন্দ এবং আগ্রহের সাথে। দুই ভাই নিয়মমাফিক ২০ থেকে ৩০ মিনিট কোডিং অনুশীলন করে থাকে। ভবিষ্যতে বেঞ্জামিন নিজেকে জেফ বেজোস এবং ইলন মাস্কের মত সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চান।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button