জীবনী

ভ্লাদিমির পুতিন: কিশোর গ্যাং এর নেতা থেকে রুশ জাতির ‘সুপারহিরো’!

অনেকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের মত করে রাশিয়াকে আর কেউ বোঝেনি বা সেই অনুযায়ী চালাতেও পারেনি। তেল, গ্যাস, তামা এবং এ্যালুমিনিয়ামের মত প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর সঠিক ব্যবহার পুতিন নিজ দায়িত্বে নিশ্চিত করেছেন। স্পাই হিসেবে নিজের সাবেক কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্সকেও ঢেলে সাজিয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তি এই পুতিন। দেশের ক্ষমতা দখলে রাখার পাশাপাশি তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রেখে চলছিলেন। ক্ষমতা দেখাতে ২০১৪ সালেই হঠাৎ ক্রিমিয়া দখল করে নেন তিনি। প্রতিবার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতায় থাকতে নতুন নতুন কৌশল বের করেন পুতিন।

২০১৫ সালে, তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো লড়াই যদি অবশ্যম্ভাবী হয়, তাহলে প্রথম আঘাতটা আপনাকেই করতে হবে।’ পঞ্চাশ বছর আগে লেলিনগ্রাদের রাস্তা থেকেই এমন শিক্ষা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

জীবনে বড় কিছু করার সবগুণ নিয়ে জন্মালেও শৈশবের পুতিন ছিলেন মারাত্মক দুষ্টু প্রকৃতির কিশোর ও পড়াশুনায় অমনযোগী এক ছাত্র। 

১৯৫২ সালে, লেনিনগ্রাদে মা মারিয়া ইভানোভানা ও বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিডোনোভিচ এর ঘরে জন্ম নেন পুতিন। পুতিনের বয়স এখন ৬৯ বছর। প্রায় ৬০ বছর আগে থেকেই মারামারি আর সংঘাতের নেশা ছিল লেলিনগ্রাদের (বর্তমান সেন্ট পিসবার্গ) কিশোর পুতিনের। ছোটবেলা থেকে খুবই দুরন্ত ছিলেন ভ্লাদিমিরোভিচ। ছাত্রাবস্থায় সমবয়সী অন্যদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে মারপিটে জড়িয়ে পড়তেন তিনি। স্কুলজীবন থেকেই তার ‘গ্যাং’ ছিল। যেটা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে তৈরি করেন। সমবয়সী বন্ধুদের তটস্থ রাখত ছেলেটি।

ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের দিকে পা বাড়াচ্ছিলেন ভ্লাদিমিরোভিচ। তবে খোলাধুলার প্রতি অসম্ভব টান থাকার কারণে পরে সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন তিনি। খেলাধুলায় আগ্রহী পুতিন প্রশিক্ষকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে খুব দ্রুতই জুডোতে পারদর্শী হয়ে উঠেন। কিশোর বয়সেই জুডো প্রশিক্ষণে ব্লাকবেল্ট পেয়েছিলেন পুতিন।

ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে কাজ করার। তাই স্কুল শেষ করার আগেই পুতিন ঠিক করে ফেলেন তিনি ইন্টেলিজেন্সের হয়ে কাজ করবেন। হাইস্কুলে পড়ার সময়ে তিনি কেজিবি’র একটি শাখার পাবলিক রিসিপশনে গিয়ে শোনেন কিভাবে একজন স্পাই বা গুপ্তচর হওয়া যায়। সেখানে তিনি জানতে পারেন, হয় তাকে সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হবে, অথবা তার একটি কলেজ ডিগ্রি থাকতে হবে। আর সবথেকে ভালো হয়, যদি সেই ডিগ্রিটি আইনের ওপর হয়। তারপরেই পুতিন লেলিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

১৯৭০ সালে, পুতিন লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনির্ভাসিটিতে আইন বিষয়ে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে, ডিগ্রি অর্জন করে যোগ দেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে। নিজের দক্ষতা, কৌশল ও মেধা দিয়ে সংস্থার প্রধান হন তিনি।

একজন কেজিবি গুপ্তচর, যাকে একটা সময়ে কেউই চিনত না, আজ তিনি রাশিয়ার শুধু প্রেসিডেন্টই না, পুরো জাতির সুপারহিরো।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button