জাতীয়সাম্প্রতিক

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নিপুনের জীবনী

নিপুন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তার পুরো নাম নাসরিন আক্তার নিপুন। যিনি নিপুন নামেই অধিক পরিচিত। নিপুন ১৯৮৪ সালের ৯ জুন, কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার জালগাঁও এ জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালে, তিনি চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন।

তার বাবার নাম মনসুর আলী। তিনি পেশায় একজন সচিব ছিলেন। তাই বাবার চাকরির কারণেই জন্মস্থান কুমিল্লাতে খুব একটা থাকা হয়নি নিপুনের। বাবা যেখানে গিয়েছেন সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। নোয়াখালী গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে এসএসসি এবং কুমিল্লা উইমেনস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন নিপুন। 

উচ্চমাধ্যমিকের পর ১৯৯৯ সালে, রাশিয়া চলে যান নিপুন। রাশিয়ার মস্কোতে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। ছোটবেলায় নৃত্যে বেশ পারদর্শী ছিলেন তিনি। তাই মিডিয়াতে কাজ করার ইচ্ছেটা তার মনে বাসা বেঁধেছিল সেই ছোটবেলা থেকেই। নিপুনের বাবা তখন সিলেটের থানা নির্বাহী অফিসার। সেই সময়ই জীবনে প্রথমবারের মতো মঞ্চে নাচ পরিবশেন করেন তিনি। এরপর যশোরে ওস্তাদ তপন জি’র কাছেও নাচ শিখেছিলেন তিনি।

২০০৪ সালে, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন নিপুন। মস্কোতে থাকার সময়েই ২০০২ সালে তার বাবাকে হারান তিনি। ২০০৬ সালে, মস্কো থেকে দেশে ফিরে অনেকটা হঠাৎ করেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হলেন এই অভিনেত্রী। নিপুনের প্রথম অভিনীত ছবির নাম “রত্নগর্ভা মা”, যা আজও মুক্তি পায়নি। তার অভিনীত প্রথম মুক্তি পাওয়া ছবি হলো এফআই মানিকের ‘পিতার আসন’। ছবিতে তিনি নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। একই সময়ে তিনি অভিনয় করেন ‘সাজঘর’ ও ‘রিকশাওয়ালার প্রেম’ ছবিতে। প্রথম ছবি ‘পিতার আসন’ মুক্তির পর নিপুণকে দর্শক খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করে নেয়। তাই দেশের বাইরের চাকরি ছেড়ে নায়িকা হিসেবেই দেশে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন নিপুন। এরপর একে একে অভিনয় করলেন ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘মেয়ে অপহরণ’, ‘বাবার জন্য যুদ্ধ’, ‘বাবার কসম’, ‘বড় লোকের জামাই’, ‘জমিদার বাড়ি’, ‘কোটি টাকার ফকির’, ‘চাঁদের মতো বউ’, ‘শুভ বিবাহ’, ‘মা বড় না বউ বড়’সহ আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে। একের পর এক ছবিতে কাজ করতে করতে নিজেকে চলচ্চিত্রাঙ্গনেই ব্যস্ত করে তুললেন নিপুন। সব মিলিয়ে ৫০ টির ও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্ন ধারার ছবিতেও সমানতালে কাজ করছেন তিনি। ভিন্ন গল্প নিয়ে নির্মিত সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘অন্তর্ধান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

সুঅভিনেত্রী হিসেবে নিপুন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর স্বীকৃতিস্বরূপ দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ‘সাজঘর’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। তারপর ২০০৯ সালে, চাঁদের মতো বউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দ্বিতীয়বার অর্জন করেন এই পুরস্কার।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব একটি পার্লার পরিচালনা করেন তিনি। ”টিউলিপ এন্টারটেইনমেন্ট” নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন তিনি।

২০১৭ সালে, নিপুন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির কার্যনিবার্হীর সদস্য পদ লাভ করেন। ২০২২ সালে, কাঞ্চন-নিপুন পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন তিনি।

গত ২৮ জানুয়ারি, অনুষ্ঠিত ভোটযুদ্ধে ১৩ ভোটের ব্যবধানে জায়েদ খানের কাছে হেরে যান তিনি। তবে, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেননি ১৬৩ ভোট পাওয়া নিপুন। ভোটের পরদিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করেন এ অভিনেত্রী। ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুন প্যানেলের অভিযোগ ছিল, সদস্য পদে ১০টি ভোট বাতিল হলেও ওই পদের ক্ষেত্রে ২৬টি ভোট বাতিল হওয়া নিয়ে। 

ফলাফলস্বরূপ চিত্রনায়ক জায়েদ পদ হারায়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে অপসারণ করে, নিপুন কে নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছে আপিল বোর্ড।

কিন্তু এর বিপরীতে জায়দ খান হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন করলে আদালত আগামী ১৩ ই ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত জায়েদ খানের প্রার্থীতা বাতিলের উপর স্থগিতাদেশ দেয়, এবং প্রার্থীতা বাতিল কেন অবৈধ হবে না সেই প্রশ্নে রুল জারি করে। এর ফলে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়ে রবিবার শপথ নিলেও নিপুন আকতার স্থগিতাদেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

ফলাফলস্বরূপ, রুলের পরবর্তী শুনানী আগামী ১৩ই ফেব্রুয়ারি এর আগ পর্যন্ত জায়েদ খানই সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button