জাতীয়

এই ভয়ংকর হেলিকপ্টারটি যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে!

বিমান বাহিনীর পর এবার আট্যাক হেলিকপ্টার ক্রয়ের অফিশিয়াল ঘোষণা দিল সেনাবাহিনী। যুদ্ধ কিংবা সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় আট্যাক হেলিকপ্টার।বিশেষত দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাতে আট্যাক হেলিকপ্টারের বিকল্প নেই। র্বতমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বেল ২০৬,এম আই ১৭১ এবং ইউরোকপ্টার  ডউফিন হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই তিনটি হেলিকপ্টারের একটিও কোন ডেডিকেটেড আট্যাক হেলিকপ্টার নয়। তাই সম্ভাব্য বহি শক্তির আক্রমণে গ্রাউন্ড ফোর্সেসকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমাদের হাতে নেই।

চলুন এবার এক নজরে দেখে নেয়া যাক, প্রকাশিত নোটিশের স্পেসিপিকেশন কি আছে-

প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি দিনে রাতে যে কোন আবহাওয়া অপারেটে সক্ষম হবে ।পাইলট ,গানার এবং হেলিকপ্টারের ক্রিটিক্যাল সিস্টেমগুলোর  প্রটেকশনের জন্য পযাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা  যুক্ত থাকতে হবে।  শত্রুর মিজাইল এবং মেশিন গান থেকে নিরাপদ থাকার জন্য এ্যাকটিভ ও প্যসিভ দুই ধরনের প্রটেকশন সিস্টেম থাকবে। অত্যাধুনিক জ্যামিং প্রতিরোধ সিস্টেম ও কাঊন্টার জ্যামিং সিস্টেম থাকবে।ককপিট হতে হবে অত্যাধুনিক যেন দুজন ক্রু চপারটির সব সিস্টেম ব্যবহার করতে  পারেন। থাকবে ডুয়াল ইঞ্জিন ফিচার।হেলিকপ্টারটি ক্রাশ করলেও ক্রুদের মিনিমাম নিরাপদ রাখার প্রটেকশন সিস্টেম থাকা আব্যশক। বিশেষে এভিনিক্স যুক্ত থাকবে যাতে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াও শ্ত্রুর নিশানায় সফল আট্যাক চালানো যায়। এফ এন এফ আইডেন্টটি ফিকেশন সিস্টেম থাকবে। এখানে বলে রাখা ভাল, সর্বশেষ পাক ভারত সংঘর্ষের সময় এই এফ এন এফ সিস্টেমের ত্রুটিতে নিজেদের হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করে ভারতীয় বিমানবাহিনী। এফ এন এফ মানে, ফ্রেন্ডস অ্যাণ্ড ফো আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম। যার মাধ্যমে কোন বিমানটি মিত্র এবং কোন বিমানটি শত্রু বিমান, তা বোঝা যায়। এতে সর্বাধুনিক হেলমেট মাঊন্টেন কিঊরিং সিস্টেম থাকবে। যার মাধ্যমে পাইলট যেদিকে তাকাবে সেদিকেই টার্গেট লক করতে সক্ষম হবে।হেলিকপ্টারটি হবে সমপূর্ণরূপে মাল্টিরোল,মাল্টি মিশন হাই মেনুভেরিবল প্ল্যাটফরম যে কোন আবহাওয়া যুদ্ধ ও শস্ত্র পাহারা দিতে সক্ষম হবে। ক্লোজ এয়ার এ্যাটাক পরিচালনা করতে পারবে।এর বাহিরে ও আরো অনেক ক্যাপাবিলিটি আছে।

রুশ এমআই -৩৫

এবার দেখা যাক  কোন কোন আট্যাক হেলিকপ্টার এই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। এদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্টের বোয়িং কোম্পানি নির্মিত, এএইচ ৬৪ এ্যাপাচিটি সব থেকে যোগ্য।কিন্তু এখানে ঊল্লেখ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের কোন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি নেই। ফলে মার্কিন হেলিকপ্টার না আশা করাই ভাল। তাছাড়া  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় বিক্রয় চুক্তিতে অনেক শর্ত জুড়ে দেয়।যেমন পাকিস্তানের এফ১৬ বিমান গুলো কখনো আক্রমণে ব্যবহার করা যাবে না  । শুধু প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা যাবে।তাছাড়া স্পেয়ার পার্টস সরবরাহে অনেক তালবাহানা করে থাকে ।  

এপাচি হেলিকপ্টার

রুশ এটাক হেলিকপ্টারের কথা আসলে সবার আগে আসে এম আই-৩৫ হাইন্ডের কথা। কিন্তু এটি কোন ডেডিকেটেড এটাক হেলিকপ্টার নয়। নোটিশের স্পেসিপিকেশন অনুযায়ী পাইলট এবং কো পাইলটের সিট  সামনে এবং পেছনে সাজানো থাকতে  হবে।এ থেকে বোঝা যায় যে রাশিয়ান কে ৫০ এবং কে ৫২ মডেলের আট্যাক হেলিকপ্টার এ টেন্ডারের অযোগ্য।কারণ এ মডেল দুটির সিট পাশাপাশি সাজানো।শর্ত অনু্যায়ী হেলিকপ্টারটিতে এফ এল আই আর সিস্টেম থাকতে হবে।যা র্বতমানে  বিদ্যমান কমিনিকেশন সিস্টেম ও এয়ার ডিফেন্সএর  সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।বাংলাদেশ সেনা ও বিমান বাহিনীর কমিনিকেশন সিস্টেম ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ন্যটো স্ট্যান্ডার্ড । এ থেকে বোঝা যায় রুশ এবং চাইনিজ বিমান ক্রযের সম্ভাবনা কম। তারপরও রাশিয়া যদি সহজ শর্তে তাদের এম আই-২৮ হেলিকপ্টারের সর্বশেষ ভার্সন অফার করে। তবে বাংলার আকাশে দেখাও যেতে পারে,এই রুশ পাখিকে।

তুরস্ক নির্মিত টি-১২৯

এর বাইরের অপশনগুলো হলো, তুরস্ক নির্মিত টি-১২৯। তুর্কি অ্যাটাক হেলিকপ্টার টি১২৯ মূলত ইটালিয়ান ম্যানগোস্টার আপগ্রেড ভ্যারিয়েন্ট।এটির লাইসেন্স তুরস্ক কিনে নিয়েছে। কিন্তু এটির ইঞ্জিন আমেরিকান কোম্পানির তৈরি। আর আমেরিকা তুরস্ক ব্যতীত অন্য কোন মুসলিম দেশের কাছে তা বিক্রয়ের অনুমতি দেয় না। ফলে এক্ষেত্রেও বিশাল ঝামেলার মধ্যে পড়তে হতে পারে।

তবে আশার কথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের বহরে এটাক হেলিকপ্টার সংযোজনে বদ্ধপরিকর। কেননা,এটি আমাদের নিরাপত্তা সুসংহত করবে। হয়ত ২০২২-২৩ সালেই আমরা এর ফলাফল দেখতে পাব।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button