আন্তর্জাতিক

এবার তুর্কি গোয়েন্দা জালে আটকা পড়লো ১৫ মোসাদ এজেন্ট!

এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। যাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে ।মোসাদের এজেন্টেরা সবসময়ই ধরা ছোয়ার বাহিরে ।তবে সম্প্রতি তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এম আই টি দাবি করছে তারা ১৫ ব্যক্তিকে আটক করেছে যারা মোসাদের এজেন্ট।গত এক বছর ধরে তাদেরকে নজরদারিতে রেখেছিল এম আই টি ।৭ অক্টবরের ওই অভিযানে অংশ নেয় তুরস্কের ২০০ জন গোয়েন্দা । ওই নেটওয়ার্কের অধিকাংশ সদস্যই ছিল তরুণ। গ্রেপ্তারকৃতদের ইস্তাম্বুলের মালতেপে জেলখানায় রাখা হয়েছে। তারা আরো দাবি করেন ৫ টি স্লিপার সেলে ভাগ হয়ে ওই নেটওয়ার্ক তুরস্কে তাদের গোয়েন্দা কর্মকান্ড পরিচালনা করত।গুপ্তচরেরা তুরস্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে  ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ফিলিস্তিনী  শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে মোসাদকে তথ্য  সরবরাহ করছিল। তাদের সম্পর্কে তথ্য দিত  যাদেরকে মনে হয়েছে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা শিল্পে কাজ করতে পারে।গ্রেপ্তারকৃতদের একজন ইস্তাম্বুলে একটি কোম্পানি চলাতেন যা বিদেশী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ সেবা প্রদান করে। ২০১৮ সালে মোসাদ তার সাথে যোগযোগ করে  এবং তাকে তুরস্কে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করতে বলে ।এর বিনিময়ে গত তিন বছরে ঐ ব্যক্তিকে মোসাদ ১০০০০ হাজার ডলার প্রদান করে।

তুর্কি মিডিয়ায় প্রকাশিত এজেন্টদের ছবি

এসব ব্যক্তি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় তথ্য ও ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কিছু ক্ষেত্রে বিট কয়েন ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ পাচার,প্রোপ্রাগান্ডা তৈরি ও প্রচার এবং টার্গেট কিলিং করার বিনিময়ে মোটা  অংকের অর্থ পেত।তবে বেশির ভাগ অর্থ গহনার দোকান এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতো মধ্যস্বত্ব ভোগীদের মাধ্যমে স্থানান্তর করত।তদন্তে জানা যায় এদের মধ্যে একটি সেল খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর সদস্যরা মোসাদের ফিল্ড এজেন্টদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করত এবং বিদেশে তাদের সাথে দেখা করত।

এই গুপ্তচর নেটওযার্কের সদস্যদের পুরো নাম প্রকাশ করেনি তুরস্ক। তুর্কি গণমাধ্যমে তাদের বিভিন্ন অদ্যাক্ষর দিয়ে অভিহিত করা হয়েছে।একজন গুপ্তচর যার নামের অদ্যাক্ষর এবি তার কাজ ছিল তুরস্কে বসবাসরত ফিলিস্তিনীদের  সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করা এবংবিশেষ করে তুরস্ক তাদেরকে কি কি সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে তা জানানো।নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ বছর জুন মাসে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন বলে তুরস্ক কর্তৃপক্ষের কাছে  রিপোর্ট করা হয়। তদন্তে আরো জানা যায় এজেড  নামের ইসরায়েলি পাসর্পোটধারী ফিল্ড এজেন্টর সাথে যোগাযোগ ছিল এবির ।আর চলিত বছর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য তাকে দশ হাজার ডলার দেয়া হয়।

তুর্কি সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হাকান ফিদান

গ্রেপ্তারকৃত গুপ্তচরদের শীর্ষ ব্যক্তিকে তুরস্কের গনমাধ্যম এস এ এস ছদ্মনামে অভিহিত  করেছে। জানা গেছে তিনি তুরস্কের কোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ।আরেক শীর্ষ  গুপ্তচরকে তুর্কি গনমাধ্যম এ জে  নামে  অভিহিত  করেছে ।ইস্তাম্বুল প্রশাসন জানিয়েছে এ জে একটি জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে  কাজ করত।তিনি মোসাদের এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কের ইনচার্জ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

গ্রেপ্তারকৃত বাকি এজেন্টর মধ্যে রয়েছেন বিইঊটি নামে ২১ বছর বয়সী আরেক জার্মান ভিত্তিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তি।তিনিও তুরস্কে বসবাসরত ফিলিস্তিনীদের  তথ্য সংগ্রহ করতেন।২৯ বছর বয়সী এন এ নামের আরেক গুপ্তচর ওয়ের্স্টান ইউনিয়নের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন বলে তুর্কি গনমাধ্যম  জানিয়েছে।

  তুর্কি গনমাধ্যমের মতে ওই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হলেন ৪৬ বছর বয়সী আর এ এ।যিনি ইসরায়েলী কনস্যুলেট থেকে তহবিল পেয়েছিলেন।এছাড়াও তিনি ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে মোসাদ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন।এছাড়া এ আর এ নামে ২৯ বছর বয়সী আরেক গুপ্তচর ইস্তাবুলে বসবাসরত আরব বিশ্বের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করতেন। তিনি কেনিয়ার নাইরোবিতে মোসাদ  কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছিলেন। তবে ওই নেটওয়ার্কের বাকিদের কাজ কি ছিল তা জানা যায়নি।   

গ্রেফতার হওয়া মোসাদ এজেন্টদের আদালতে তোলা হচ্ছে

 বরাবরের মত এবারও ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন থাকবে তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না । পশ্চিমা বিশ্বের কাছে জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাসের প্রতি আঙ্কারার সমর্থনের কারণে ইসরায়েলও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ।যদিও এই বছরের জুলাই মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগেবের মধ্যে ফোনালাপ হয়।  দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button