জীবনীসাম্প্রতিক

আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি আশরাফ গনির জীবনী

আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানরা রাজধানী কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর প্রচুর নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালান দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। 

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায়, গনি তার স্ত্রী এবং দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সাথে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যান। এরপরপরই হইচই শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও রক্তপাত এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

আশরাফ গনি একজন আফগান রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং অর্থনীতিবিদ যিনি সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত আফগানিস্তানের ১৪ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী, আফগানিস্তানের লগার প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন আশরাফ গনি। তিনি আহমদজাই পশতুন গোত্রের অন্তর্গত।

১৯৬৭ সালে, তিনি লেক ওসউইগো হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে স্নাতক ডিগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে বৈরুতে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হন। প্রাথমিক অবস্থায় আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চাইলেও পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে, স্নাতক ডিগ্রী লাভের পর একটি সরকারি বৃত্তি নিয়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি। সেখান থেকে ১৯৭৭ সালে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন গনি।

১৯৮৩ সালে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান পিএইচডি ডিগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে। সেখানে পড়ালেখা করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া ও জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কর্মজীবনে তিনি ২০০২ সাল পর্যন্ত জন হপকিনস সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষাদান করেছেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিশ্বব্যাংকে কর্মরত ছিলন।

২০০২ সালে, ২৪ বছর পর জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকে তার পদ ছেড়ে আফগানিস্তানে ফিরে আসেন তিনি। আফগান সরকারে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন সেই বছরের ই ১ ফেব্রুয়ারি। ২০০৪ সালে, কাবুল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

জুলাই, ২০০২ থেকে ডিসেম্বর, ২০০৪ মেয়াদকালে তিনি আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধানের দায়িত্বে থেকে তালেবান সরকারের সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কট দূরীকরণে কাজ করে যান। অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর  তিনি নতুন মুদ্রা জারি করেন। ট্রেজারি অপারেশন কম্পিউটারাইজ করা, একক ট্রেজারি অ্যাকাউন্ট চালু করা, ভারসাম্যপূর্ণ বাজেটের নীতি গ্রহণ এবং বাজেটকে কেন্দ্রীয় নীতি উপকরণ হিসাবে ব্যবহার, রাজস্ব আদায়কে কেন্দ্রীয়করণ, শুল্ক সংস্কার এবং শুল্ক পরিবর্তনসহ ব্যাপক সংস্কার করেন।

২০০৫ সালে, তিনি একটি টিইডি বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি আফগানিস্তানের মতো একটি ভাঙা রাজ্য পুনর্নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন ।

এরপর ২০০৯ সালে, অংশ নেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে; তবে সে দৌড়ে তিনি হেরে যান। প্রথম মেয়াদে ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি জোট সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে হামিদ কারজাইকে পরাজিত করে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে জয়লাভ করে। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২০ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আসেন আশরাফ। 

আশরাফ গনি আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাঁকে যুুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে দেখা যায়। 

২০১৩ সালে, ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন কর্তৃক পরিচালিত ‘বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বুদ্ধিজীবী’র নাম প্রকাশ করা হয়েছিলো, যেখানে আশরাফ গনি ছিলেন ৫০ তম।

ব্যক্তিগত জীবনে আশরাফ গনি রুলা সাদা নামক লেবাননের খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এক নারী কে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ঘরে মরিয়ম এবং তারিক নামে দুটি সন্তান রয়েছে।

জানা যায়, কাবুল পতনের পর আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে তাজিকিস্তানে গেলেও সেখানে আশ্রয় পাননি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি কে। সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয় প্রেসিডেন্ট তাকে। এরপর তার বিমান যায় ওমানে। এর আগে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন আশরাফ গনি। ২০১৪ সালে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে, সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন তিনি। তবে তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান ই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাই শেষ পর্যন্ত আশরাফ গনি স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রেই আশ্রয় নিতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।

লেখক- সায়মা আফরোজ (নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর AFB Daily)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button