জীবনীসাম্প্রতিক

কে এই মোল্লা আবদুল গনি!

বিনা প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করেছেন ও দেশ ছেড়ে চলে গেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। এরপর প্রশ্ন উঠেছে, কে হচ্ছেন আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট। তবে এরইমধ্যে নাম এসেছে মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের। তিনিই হতে পারেন আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট।

কে এই মোল্লা আবদুল গনি বারাদার?

তালেবান আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। যিনি দলের মধ্যে ‘মোল্লা বারাদার আখুন্দ’ অথবা ‘মোল্লা ভাই’ নামেও পরিচিত।

গোষ্ঠীটির সাবেক নেতা মোল্লা ওমরের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দক্ষিণ আফগানিস্তানে তালেবানের সামরিক কর্মকাণ্ডের অধিনায়ক তিনি।

১৯৬৮ সালে, আফগানিস্তানের ওরুজগান প্রদেশের দেহ রাহওয়াদ জেলার উইটমাক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গনি বারাদার। 

তিনি সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে কান্দাহার প্রদেশের মাইওয়ান্দে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেছেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমের মতে, ওমর আর বারাদার বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়।

তিনি ১৯৮০’র দশকে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে কান্দাহারে (প্রধানত পাঞ্জওয়াই এলাকায়) যুদ্ধ করেছিলেন এবং সোভিয়েত সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদিনের হয়ে কাজ করেছিলেন।

আবদুল গনি বারাদার, ১৯৯৪ সাল থেকে তালেবান আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। 

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান শাসনামলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বারাদার। তিনি হেরাত আর নিমরোজের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০০১ সালে আমেরিকা আফগানিস্তানের দখল নিলে তখন আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে তালেবানরা। তার  নেতৃত্বে ছিলেন এই মোল্লা আবদুল গনি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিএআই) গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি বিশেষ দল কর্তৃক করাচি থেকে গনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকিস্তানে গ্রেফতার হওয়ার সময় তালেবানের ধর্মীয় বিভাগের দ্বিতীয় শীর্ষ  নেতা ছিলেন গনি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রই গনিকে মুক্তির দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ জানালে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর, পাকিস্তান সরকার তাকে মুক্ত করে দেয়। তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই মূলত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর পরপর ই তাকে তালেবানের রাজনৈতিক বিষয়ক নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের কূটনৈতিক দপ্তরের প্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তালেবানের যে চুক্তি হয় তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন গনি।

উল্লেখ্য গত ১৫ আগষ্ট রবিবার, সকালে রাজধানী কাবুলের চার দিক দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে তালেবান যোদ্ধারা। তবে দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে কাবুলে ঢোকার মুখেই থমকে যেতে হয় তাদের। তালেবান নেতারা জানান, যারা কাবুল ত্যাগ করতে চায়, সে সুযোগ যেন তাদের দেওয়া হয়। কোনো সংঘাত নয়, বরং শান্তিপূর্ণভাবেই তারা ক্ষমতার পালাবদল চায় তারা।

মোল্লা আবদুল গনি তালেবান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করেছিলেন। শেষপর্যন্ত আটঘাট বেঁধেই আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার আগ্রাসন দূর করলেন।

লেখক- সায়মা আফরোজ (নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর AFB Daily)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button