প্রযুক্তি

বিশ্বরাজনীতির নতুন আতঙ্ক পেগাসাস!

বিশ্বরাজনীতির ভীত কাঁপিয়ে দেয়া নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে ইসরাঈলী এক নয়া প্রযুক্তি,  নাম  “পেগাসাস”। 

রাজনীতির ময়দানে এই প্রযুক্তি ইদানিং এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে পশ্চিম্বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এর ভয়ে তার সকল ল্যাপটপ ও ফোনের ক্যামেরা প্লাস্টার করিয়ে নিয়েছেন । 

বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়া প্রতিষ্ঠান হতে শুরু করে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্টরা পর্যন্ত এর খড়গ হতে বাচতে পারছেনা । 

কি আছে এ পেগাসাস নামক প্রুযুক্তিটিতে ? কেনইবা বিশ্ব নেতাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এ প্রযুক্তিটি ?

 

পেগাসাস এখন পর্যন্ত মনুষ্য দ্বারা আবিস্কৃত সবচাইতে ভয়ানক গোয়েন্দা প্রযুক্তি হিসেবে ধরে নেয়া হয় । এ প্রযুক্তি দ্বারা শুধুমাত্র একটি দেশের জনগণই নয় বরং পুরো বিশ্বের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়া যায় । 

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদন মতে ,এ প্রযুক্তিটি যদি কোন ভাবে ফোনে ঢোকার পথ করে নিতে পারে ,তবে এ প্রযুক্তিটি আপনার অজান্তেই ফোনকে পরিণত করবে ২৪ ঘন্টার এক নজরদারী যন্ত্রে । 

ফোনে যত মেসেজ আসুক বা পাঠানো হোক পেগাসাস তা কপি করে পাঠিয়ে দেয় হ্যাকারের কাছে ।

ফোনে থাকা ছবি কিংবা ভিডিওটিও পাঠিয়ে দিতে পারে এ প্রযুক্তিটি । 

এমনকি স্বয়ংক্রিয় ফোন কল রেকর্ডিং সিস্টেমের কারণে যেকোন কল রেকর্ডিংও হ্যাকারদের কাছে চলে যায় । 

সফটওয়্যারটির সবচাইতে ভয়ানক দিক হলো আপনি হয়তবা আপনার ফোনটিকে কাছে রেখে কারো সাথে মিটিং করছেন , এ প্রযুক্তিটি আপনার মোবাইলের মাইক্রফোনকে অথবা ক্যামেরাকে জাগিয়ে তুলে অনায়াসেই আপনার বলা সকল কথা শুনতে এবং দেখতে পারে ।

পেগাসাস প্রযুক্তিটির নির্মতা কোম্পনিটির নাম NSO গ্রুপ । বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম সেরা প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হয় এ কোম্পানিটি । 

আজ থেকে ১১ বছর আগে ইসরায়েলের তিনজন নাগরিক নিভ কার্মি , সালেভ হুলিও এবং ওমর লেভাইয়ের হাত ধরে যাত্রা শুরু এ কোম্পানিটির 

NSO গ্রুপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হতে জানা যায় তারা কোন ব্যাক্তিগত ব্যাবহারের জন্য এ সফটওয়্যার বিক্রি করবেনা।

এমনকি এই প্রযুক্তি যারা ক্রয় করবে তাদের এ সফটওয়্যারটি ব্যবহারের উপর পুরোপুরি নজরদারি করা হয়।

যদি তারা এর ভুল ব্যবহার করে তাহলে তারা এটিকে কেন্দ্র থেকে বন্ধ করে দিতে পারে । এর অন্য মানে হলো তাদের প্রযুক্তির ক্রেতারা যাদের উপর নজরদারি চালাবে তার তথ্যও প্রতিষ্ঠানটির কাছে চলে যাবে । 

ইসরায়েলের অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র ভারত সরকারও এর ক্রেতা । নরেন্দ্র মোদী তার অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দী রাজীব গান্ধী  সহ বেশকিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দির মোবাইলে এটি স্থাপন করেন , যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতিয় রাজনীতি।

এছাড়াও সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন হিউম্যান রাইটস ওর্গেনাইজেশনগুলো । 

কানাডিয়ান দ্য সিটিজেনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে জানা যায় বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা তিনজন প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে এ প্রযুক্তিটি পাওয়া গেছে।

যার মাঝে শীর্ষ নাম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের , এছাড়াও রয়েছে মিশর ও মরক্কোর প্রধানমন্ত্রীর নামও।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামের তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স ,বেলজিয়াম সহ বেশকিছু চমকপ্রদ নাম ।

এছাড়াও আল যাযিরা , সিএনএন , দ্য নিউঅর্ক টাইমস সহ বিশ্বের শীর্ষ নিউজ ওর্গেনাইজেশনগুলোতে ইতিমধ্যেই এ প্রযুক্তি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে । 

বিশ্ববাসীর প্রাইভেসিতে মারাত্বক আঘাত হানতে পারা এ প্রযুক্তিটি মানবতার জন্য ঠিক কতটুকু সুফল বয়ে আনতে পারবে তাই আজ ভাবার বিষয়।

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button