প্রযুক্তি

এনার্জি ড্রিংক্স কোম্পানির রাজা রেড বুল!

রেড বুল, লাল ষাড়!  

বর্তমান বিশ্বে এ ড্রিংক্সটির নাম শুনেননি এমন মানুষ খুজে পাওয়াই এখন দুস্কর। ফোর্বসের তালিকা অনুসারে গ্লোবাল মার্কেটে এ কোম্পানিটির অবস্থান এখন ৭১ নম্বরে। 

কোম্পানিটি শুধু গতবছরই সাড়ে সাত বিলিয়ন  ক্যান রেড বুল বিক্রি করেছে বিশ্বব্যাপী।যা গড়ে প্রায় পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের একটি করে রেড বুল ক্রয়ের সমান!

 

অবাক করা তথ্য হলেও সত্য বিশ্বের প্রায় ১৭১ টিরও বেশি দেশে এর ব্রাঞ্চ রয়েছে  । এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে দেয় কোম্পানিটি এনার্জি ড্রিংক্সের বাজারে কতটা প্রাধান্য বিস্তার করছে। 

অনেকেই রেডবুল কোম্পানিকে অস্ট্রিয়ান ভেবে থাকলেও এর জন্ম কিন্তু থাইল্যান্ডে। থাইল্যান্ডের এক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মালিক চালেও ইউদিভিয়ার হাত ধরেই মূলত কোম্পানিটির জন্ম। 

১৯৬২ সালের কথা, থাইল্যান্ডের বাজারে তখন  নানা ধরণের এনার্জি ড্রিংক প্রবল জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করেছে । তখনো থাইল্যান্ডে কোন এনার্জি ড্রিংক প্রস্তুতকারক কোম্পানি ছিলো না, যাই পাওয়া যেত সবই বিদেশ হতে আমদানী কৃত। 

বাহির থেকে আমদানী করাতে এর দামও ছিল সর্ব সাধারণের নাগালের বাহিরে। শুধু উচ্চবিত্তরাই এর স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পেত। 

চালেও ইউদিভার এনার্জি ড্রিংককে সাধারণ মানুষের নাগালের ভিতরে আনতে তৎকালীন থাইল্যান্ডের বাজারে থাকা বিভিন্ন সফট ড্রিংক্সকে নিয়ে গবেষণা করে সম্পূর্ণ নিজ ফর্মূলায় একটা নতুন এনার্জি ড্রিংকের আবিস্কার করেন। 

চালেও ইউদিভিয়া ড্রিংক্সটির থাই ভাষায়  নাম রাখেন “ক্রাটিং ডায়েং” যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় “লাল ষাড়”। 

যেহেতু এনার্জি ড্রিংক মানুষের শরীরে শক্তি যোগায় তাই তিনি শক্তিকে ষাড় দিয়ে বুঝিয়েছিলেন এবং শক্তি বেড়ে যাওয়া বুঝাতে লাল শব্দটিকে ব্যাবহার করেছিলেন। 

চালেও ইউদিভিয়া  উঠতি বয়সে নিজে একজন সেলসম্যান ছিলেন।  মার্কেটিং এর সে অভিজ্ঞতাকে পুরো দস্তুর কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি,  একইসাথে কমদামে আরাধ্য এনার্জি ড্রিংক্স তিনি সাধারণ মানুষের নাগালের ভিতরেও নিয়ে এসেছিলেন । 

 এই দুই কারণে ১৯৭৮ সালের মাঝেই থাই বাজারে একক আধিপত্য বিস্তার শুরু করে ক্রাটিং ডায়েং, হয়ে যায় থাইল্যান্ডের শীর্ষ এনার্জি ড্রিংক কোম্পানি। 

ক্রাটিং ডায়েং হতে আমাদের আজকের রেড বুল হয়ে উঠার পিছনের গল্প শুরু হয় ১৯৮২ সালে। সে বছর অস্ট্রিয়ান এক ব্যাবসায়ী ডিটরিখ ব্যাবসায়িক উদ্দ্যেশ্যে থাইল্যান্ড এসেছিলেন। বিমান বন্দরে নেমে তিনি ক্রাটিং ডায়েং পান করেছিলেন । 

পানীয়টি এতটাই ভালো লেগে যায় তার তিনি সঙ্গে সঙ্গেই চালেও ইউদিভিয়ার সাথে যোগাযোগ করে একে অস্ট্রিয়ায় বাজারজাত করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে আসেন । 

তবে ডিটরিখ হুবহু ক্রাটিং ডায়েংকেই অস্ট্রিয়ায় বাজারজাত করেননি। ইউরোপীয়ানদের টেস্টের দিকে নজর রেখে তিনি এর স্বাদে খানিকটা পরিবর্তন আনেন এবং একইসাথে ক্রাটিং ডায়েটের নাম পরিবর্তন করে এর ইংরেজি ভার্শন ” রেড বুল” বাজারে নিয়ে আসেন। 

১৯৮৭ সালে প্রথম অস্ট্রিয়ায় এ পানীয়টি বাজারজাত করা হয়। পেপসি, কোকাকোলার যুগে পানীয়টিকে শুরুর দিকে বেশ হিসেবি পদক্ষেপ ফেলতে হয়েছিল। 

তারা এর মার্কেটিং এর জন্য অভিনব সব পন্থা প্রয়োগ করেছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে তাদের পানীয়র মূল ভোক্তা হিসেবে টার্গেট করে তারা কিছু স্টুডেন্টদের নিয়োগ দিয়েছিলেন যাদের কাজই ছিলো বিভিন্ন পার্টিতে, কলেজে রেড বুল বিনামূল্যে বিতরণ করা। এ মার্কেটিং পন্থাটি কাজে লেগেছিল খুব শীঘ্রই পানীয়টি অস্ট্রিয়ান বাজারে আলোড়ন ফেলে দেয়। 

১৯৯০সাল হতে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে এবং ১৯৯৪ তে আমেরিকার বাজারে কোম্পানিটি প্রবেশ করে। আজ রেড বুল আমেরিকান মার্কেটে ২৪.৯% মার্কেট শেয়ার নিয়ে এনার্জি ড্রিংক্স মার্কেটে শীর্ষে অবস্থান করছে। 

রেড বুল আজ বিশ্ব বাজারে নেতৃত্ব দিলেও এর কিছু তথ্য হাসিয়ে তুলতে পারে যেকাওকে। রেড বুল তাদের মার্কেটিং এর জন্য একটি নতুন স্লোগান নিয়ে এসেছিল, 

“Red bull gives you wings” 

বিশ বছরেও অধিক সময় স্লোগানটি তারা ব্যবহার করলেও কোম্পানিটিকে এর জন্য গুনতে হয়েছিল মোটা অংকের জরিমানা। 

বেঞ্জামিন ক্যারেথ নামে এক লোক মামলা করে বসেন,  তিনি বলেন ১০ বছর যাবৎ রেড বুল পান করলেও আজো তার কোন পাখা কেন গোজায়নি। কোম্পানিটি মিথ্যা এডভার্টাইজমেন্ট করে পণ্য বিক্রি করছে। 

মামলাটিতে রেড বুল হেরে যাওয়ার কারণে তাদের ১৩ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল। 

ছোট্ট এক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মালিক দ্বারা শুরু হওয়া রেড বুলের আজ বহু শাখা প্রশাখা রয়েছে ফর্মুলা-১ সহ বিভিন্ন রেসে তাদের নিজস্ব ফ্র‍্যাঞ্চাইজি রয়েছে দিনকেদিন বড় হতে থাকা রেড বুল কোম্পানিটি সম্পর্কে জেনে আপনার কেমন লাগল?

মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button