খেলাধুলা

বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটারের শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু?

“আমি কি একটু বাংলায় কথা বলতে পারি ?”

ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছিলেন মানুষটি ,ম্যাচ শেষে ধারাভাষ্যকার রা যখন তাকে কথা বলার জন্য স্টেজে ডেকেছিলেন তখন মাইকটি হাতে নিয়ে বাংলা বলতে চেয়ে এমনই সরল আবেদন করেছিলেন মানুষটি । বলছি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম তারকা স্পিনার মুহাম্মদ রফিকের কথা ।

সাধাসিধে এই মানুষটি বাংলার ক্রিকেটে তখন এসেছিলেন যখন বংলার ব্যাটসম্যানদের ক্রিকেট পিচে অসহায় আত্মসমর্পনের কারণে খুব কমই তার সেকেন্ড ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ হত । বোল করার পর্যাপ্ত সু্যোগ পেলে হয়ত ক্রিকেট বিশ্ব তাকে এখন কোন গ্রেট ভাবতেও দ্বিধা করত না।

বাংলার বোলিং ইতিহাসে  প্রথম এ তারকা স্পিনার কখনোই স্কুলের গন্ডি পেরোতে পারেননি। দক্ষিণ ঢাকার জিনজিরায় জন্ম নেয়া মোহাম্মদ রফিকের অতি দারিদ্র্যতা তাকে কখনোই স্কুলে যাবার সুযোগ করে দেয় নি। 

জীবনে স্কুলে না গেলেও তাবৎ বিশ্বের বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করা মোহাম্মদ রফিকের বল দেখে হয়ত বাংলার সে ঐতিহাসিক প্রবাদ “পড়ালেখা করে যে গাড়িঘোড়ায় চড়ে সে” নিজেই লজ্জা পেয়ে গিয়েছিল। 

শুধু রফিকই নয় বাংলার ক্রিকেটের বেশ এমন বহু তারকাই রয়েছে যারা পড়ালেখাতে নিজেদের নৈপূন্য দেখাতে পারেন নি আবার বেশ কিছু ক্রিকেটার মাঠের পাশাপাশি পড়ালেখাতেও দেখিয়েছেন অলরাউন্ডিং পার্ফর্মেন্স । 

বাংলার ক্রিকেটারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কথা বলা শুরু করলে প্রথমেই বলতে হয় ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজার কথা। 

ক্যারিয়ার বিধবংসী ইনজুরিতে পড়েও হার না মানা ম্যাশ শিক্ষার আঙিনাও পার করেছেন সাহসিকতার সাথে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে দর্শনের উপর ডিগ্রিধারী এ মানুষটি বাংলার ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হয়েই এসেছিলেন। 

পড়ালেখার কথা বললে মাশরাফির পরই যার নাম আসে তিনি মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিম। বড়ভাই মাশরাফির মত মুশফিকুর রহিমও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স করেছেন। 

অঙ্কের মারপ্যাচ, জ্যামিতির টুকটাক 

সবার মাথায় যে সমান ভাবে  ঢুকবে না সেটাই ত স্বভাবিক আর তাই যেন প্রমাণ করে যাচ্ছেন কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। 

টাইগার জার্সি গায়ে চড়িয়ে হোক কিংবা আইপিএল এর কোন টিমের হয়ে বল করে হোক, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের হাটু কাপানো আমাদের কাটার মাস্টার প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে হাইস্কুলেই কখনো যাতায়াত করেননি। 

তাতেই বা কি যায় আসে দ্য ফিযের! আন্দ্রে রাসেলকে মাটিতে ভূপাতিত করা সেই ইয়োর্কারের পর ঠিকই ত তার বন্দনায় চিৎকার করে উঠেছিল পুরো বিশ্ব।

একই পথে হেটেছিলেন

 “এক্কেরে ভাইঙ্গা দিমু” খ্যাত গাইবান্ধার স্পিড স্টার রুবেল হোসেন। 

মুস্তাফিযের মতো ইনিও ক্লাস ফাইভের পর স্কুলের চৌকাঠ মাড়াননি। 

তবে তাসকিন এদিকে ব্যাতিক্রম,

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হতে বিবিএ ডিগ্রি নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। 

বাংলার ওপেনিং স্লটে কত মানুষ আসে যায়, খান সাহেব রয়ে যায়। 

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খান ছোটবেলা থেকেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ালেখা করে বড় হয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার সর্বোচ্চ ডিগ্রি তার বিবিএ। 

ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের প্রায় শেষের দিকে চলে আসা সাব্বির রহমান কোন কালেই পড়ালেখার প্রতি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না । 

ক্রিকেটের জন্য এস.এস.এসি পরীক্ষা না দিয়ে বাসা থেকে পালিয়েও গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য বাসার চাপে এসএসসি তাকে দিতেই হয়েছিল। পরে তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হতে ব্যাচেলর ডিগ্রি পর্যন্ত নিয়েছেন। 

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পড়ুয়া ছেলেদের একজন বলা যেতে পারে শাহরিয়ার নাফিস কে। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী তিনি। 

অফ ফর্মে থাকা আরেক মারকুটে ওপেনার সৌম্য সরকারের ফর্মে ফিরে আসাটা বাংলার ক্রিকেটের জন্য বেজায় জরুরি। পড়ালেখার পাঠ তিনি বিকেএসপি হতেই চুকিয়েছেন। 

শেষ করছি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দিয়ে। ক্রিকেট ইতিহাসের অল টাইম লিজেন্ডদের কাতারে চলে যাওয়া বাংলাদেশের এ তারকা প্লেয়ার পড়ালেখার দিকে কিন্তু মোটেই খুব একটা অগ্রসর ছিলেন না। অনেকটা দায়ছাড়া ভাবেই তিনি তার পড়ালেখার জীবন চালিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হতে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে পড়ালেখার ইতি টেনেছেন এ বিশ্বসেরা। 

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button