সাম্প্রতিক

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় প্রাণ দিতে হলো ওমর ফারুক কে!

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও প্রচার করায় বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে গুলি করে শহীদ করা হয়েছে ওমর ফারুক নামের একজন নও মুসলিমকে।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের তুলাছড়ি আগা রায়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়ায় ১৮ জুন শুক্রবার রাত নয়টার দিকে দুর্বৃত্তের গুলিতে শহীদ হন তিনি। তাঁর পূর্ব নাম বেন্নাচন্দ্র ত্রিপুরা। পিতার নাম তয়ারাম ত্রিপুরা।

জানা যায়, ৫৫ বছর বয়সী নও মুসলিম ওমর ফারুক বন্ধুর দাওয়াতে ২০১৪ সালে খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মাসজিদ বানানোর জন্য নিজের জায়গা-জমি দান করে উক্ত এলাকায় সর্বপ্রথম একটি মসজিদও নির্মাণ করেন। সেই সাথে ইসলাম ধর্ম চর্চা করতে শুরু করেন এবং সেই মসজিদ এর ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয় রোয়াংছড়ির ওই চরম বৈরী পরিবেশে তিনি অন্যান্য বিধর্মীদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তাঁর একক প্রচেষ্টায় অন্ধকার পাহাড়ে ছড়াচ্ছিল দ্বীনের আলো। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসেছিল বহু উপজাতি পরিবার। 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা একের পর এক তাকে হত্যা করার হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু ওমর ফারুক জীবনের তোয়াক্কা না করে ইসলামের প্রচার অব্যাহত রাখেন। তার এই প্রচেষ্টায় শুধু নিজের পরিবার নয়, রোয়াংছড়ি এলাকায় তার দাওয়াতে ৩০টি উপজাতীয় পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একারণে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা তাকে থামাতে গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করে।

তাঁর দাওয়াতি কাজকে প্রতিহত করার জন্য এবং সেখানে ইসলামের আওয়াজকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্যই সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

তুলাঝিরি আগা রায়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়াটি রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে সাত-আট কিলোমিটার দূরে। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় পাড়াটি দুর্গম। রায়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়ার কয়েকজন বলেন, তাঁদের ত্রিপুরাপাড়ায় ৩৮টি পরিবার থাকে। এর মধ্যে ৫টি পরিবার কয়েক বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পাড়ার অন্য পরিবারগুলো সবাই খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী। তাদের দাবী, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর হয়েও খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ তাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার ক্যাডাররা জড়িত।

ওমর ফারুক শহীদ হওয়ার পর তার পরিবার ও তার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা নওমুসলিম পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছে। তুলাছড়ি পাড়ার এই মসজিদটিতে নামাজ পড়তে যেতে স্থানীয় নওমুসলিমরা আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক এবং তুচ্ছ বিষয়ের আলোচনার ভীড়ে বরাবরের মত বান্দরবানের তুলাছড়ি পাড়ার নবমুসলিম উমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি। 

এভাবে আর কত মুসলিম প্রাণ হারাবে!

লেখক- সায়মা আফরোজ (নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর AFB Daily)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button