প্রযুক্তি

ভানগড় দূর্গঃ বিশ্বের অন্যতম হোন্টেড হানাবাড়ি

ভূত শব্দটি শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সহ বহু মানুষের কাছেই বহুকাল যাবৎ বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝামাঝিতে অবস্থান করছে। 

ভূতে বিশ্বাসী অথবা অবিশ্বাসী যেকোন ধরণের মানুষের জন্যই আজ আপনাদের এক ইতিহাস সমৃদ্ধ রাজবাড়ির গল্প শোনাব।জায়গাটিকে ভারতের সবচাইতে হোন্টেড প্লেস হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন বহু আর্কাওলিজস্টরা।

এমনকি জায়গাটিকে বিপজ্জনক জানিয়ে খোদ সে দেশের সরকারই রাজবাড়িটির মূল ফটকে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে সূর্যোদয়ের পরে দূর্গে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। 

বলছি ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত  ভানগড় দূর্গের কথা। সারিস্কা টাইগার রিজার্ভের এক প্রান্তে গড়ে উঠা বিখ্যাত এ ভানগড় দূর্গে নাকি যত রাত গভীর হয় ততই ভৌতিক হয়ে উঠে এর পরিবেশ । 

অতিপ্রাকৃতিক কান্ডকারখানায় বিশ্বাসীদের মতে, স্থানটি ভারত তথা এশিয়ার সবচাইতে কুখ্যাত ও ভয়ঙ্কর হানাবাড়ি।

বাড়িটির ভৌতিকত্ব সমগ্র ভারতবর্ষে এতটাই ছাপ ফেলেছে যে ইতিমধ্যেই এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা মুভি, ড্রামা সিরিজ কিংবা টিভি ডকুমেন্টারি। 

ভানগড় দূর্গ রাতের বেলায় অতিপ্রাকৃতিক হয়ে উঠে এ বিশ্বাসের কারণেই দিনের বেলায় হাজারো পর্যটকে মুখর হয়ে উঠে জায়গাটি।

কিন্তু ঠিক সন্ধ্যা নামার পরেই জনমানবশূণ্য বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয় স্থানটি।স্থানীয় গ্রামের সকল পরিবার সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই বন্ধ করে দেন ঘরের সকল দরজা জানালা।

সেখানে বসবাসরত স্থানীয় লোকদের ভাষ্যনুযায়ী রাত গভীর হতে শুরু করলে  বহু দূর হতেও নাকি শোনা যায় দূর্গের ভেতর থেকে আসা নানা প্রকার আর্ত-চিৎকার, গোঙ্গানির শব্দ।

মাঝে মাঝে নাকি হোন্টেড এ রাজবাড়ি থেকে আসে পোড়া বারুদের গন্ধ, ঘোড়ার খুড়ের আওয়াজ সহ নানা উদ্ভট আওয়াজ। 

ভারতের এনডিটিভির বিখ্যাত শো ” ইন্ডিয়াস মোস্ট হোন্টেড ” পরিচালনা করেন রকি সিং ও ময়ূর শর্মা।বিশ্বের নানা ভয়ানক হোন্টেড জায়গায় রাত কাটানো এ মানুষ দুটি ভানগড়ে রাত কাটানোর সময় মুখোমুখি হন নানা অদ্ভূত কান্ডের।

তারা তাদের সকল কর্মকান্ড নাইটভিশন ক্যামেরায় রেকর্ড করে থাকেন।সকল জায়গায় দু’জন আলাদা ভাবে থাকলেও ভানগড়ে তারা আলাদা থাকতে পারেননি।

দূর্গে অবস্থানের সময় তারাও শুনেছিলেন নুপুরের আওয়াজ,নারী কন্ঠের আর্তচিৎকার,এমনকি ঘটনার এক পর্যায়ে তাদের ক্যামেরার মোশন সেন্সরও কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল,তাদের দিকে ছুটে আসতে শুরু করেছিল পাথর কণা! 

ভানগড় এতটা পরিত্যাক্ত ও ভয়ানক হওয়ার কারণ হিসেবে রাজস্থানের লোকমুখে সর্বাধিক প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী,সপ্তদশ শতকে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিংহ এর ছোট ভাই মাধু সিংহ রাজস্থানে এ দূর্গ গড়ে তোলেন।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, রাজা মাধু সিংহ যখন প্রথম ভানগড়ের কেল্লা তৈরি করছিলেন সেই কেল্লার চত্বরের এক কোণেই ছিল সাধু বালুনাথের আশ্রম। তিনি মাধু সিংহকে এই কেল্লা তৈরিতে বাধা দেন। 

মাধু সিংহ কে গুরু বালুনাথ আদেশ দিয়েছিলেন, কেল্লা বানানোয় তার কোন আপত্তি নেই, তবে কেল্লার ছায়া যেন তার আশ্রমে না পড়ে। রাজা মাধু সিংহ ভয়েই হোক কিংবা সাধুর প্রতি শ্রদ্ধাতেই হোক,কথা দিয়েছিলেন বালুনাথের আদেশ তিনি মান্য করবেন।

কিন্তু কেল্লা বানানো শেষ হলেও বালুনাথের কথা শেষ পর্যন্ত রাখতে সক্ষম হননি মাধু সিংহ।দেখা গেল দিনের একটি সময়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য কেল্লার ছায়া পড়ত বালুনাথের আশ্রমের উপর।

আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সাধু বালুনাথ৷তীব্র আক্রোশে ভানগড় দূর্গের সাথে সাথেই ধবংস করে দিয়েছিলেন গোটা ভানগড় রাজ্য। 

এই রাজ্যে ঘর-বাড়ির অভাব না থাকলেও সেখানে গেলে দেখা যায় কোন বাড়িরই ছাদ নেই।

স্থানীয়রা এ বিষয়ে বলে থাকেন, বালুনাথ চেয়েছিলেন,এই এলাকায় অন্য কেও যাতে বসবাস না করতে পারে,সেই কারণেই তিনি সকল বাড়ির ছাদ উড়িয়ে দিয়েছিলেন। 

ঘটনা যাই হোক না কেন,প্রতি বছরই কিছু ট্যুরিস্ট নানাভাবে  মারা যান এখানে ঘুরতে এসে।দূর্গের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বর্ণিত এ সকল ঘটনাগুলোকে আজগুবি বলে থাকলেও প্রতি বছর ট্যুরিস্টদের প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে তারাও অস্বীকার করতে পারেননি। 

কাহিণিগুলো অবাস্তব হওয়া স্বাভাবিক।ভূতে অবিশ্বাসী ও যুক্তিবাদীরা বলে থাকেন সবটাই নাকি ব্যবসায়ীক কৌশল!

অপরদিকে ভূতবিশ্বাসীরা প্রশ্ন তোলেন কেন তাহলে গ্রামটির লোকরা আজো ঘরে ঢালাই ছাদ দেয়ার চেষ্টা করলে তা ভেঙে পড়ে?  

কেন রাজস্থান ট্যুরিজমের সরকারী ওয়েবসাইটে   লেখা আছে ” ভারতের সবচাইতে ভূতুরে স্থানের একটি অভিশপ্ত এই ভানগড় দূর্গ”? কেনইবা রাতে সে দূর্গে প্রবেশকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে? কেন আজো সে দূর্গ হতে শোনা যায় নানা রকমের উদ্ভট সব শব্দ?

আপনার কি মনে হয়?পৃথিবীর সেরা দশ ভৌতিক জায়গার একটি হিসেবে পরিচিত এই ভানগড় দূর্গে কি আসলেই কোন প্রেতাত্মার বসবাস রয়েছে নাকি সবটাই মানুষের মনগড়া লোককথা ? 

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button