আন্তর্জাতিকসাম্প্রতিক

ইসরাইলঃপৃথিবীর সবচাইতে জটিল নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং বেনিয়ামিন যুগের অবসান

ইতিহাস ঘটিয়ে এবার ইসরাইলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ইয়ার লাপিড ও নাফাতালি বেনেট নামক দুই ইসরাঈলী রাজনীতিবিদ।

পৃথিবীর সবচাইতে জটিল নির্বাচনী সমীকরণধারী একটি দেশ হিসেবে পরিচিত ইসরাঈল।তাদের ন্যশনাল পলিটিক্স এতটাই দূর্বোদ্ধ যে রাজনীতি বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা ছাত্ররাও এ দেশের নির্বাচনি পন্থা বুঝতে হিমশিম খায়। 

আর এই জটিল নির্বাচনি মারপ্যাচের কারণেই এবার ইসরাইলের আসন্ন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন দু’জন ব্যাক্তি। 

ইসরাঈলে প্রতি চার’বছরে একবার করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।একজন প্রধানমন্ত্রী যতবার খুশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।এতে কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই।

তাদের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন সংখ্যা ১২০। তাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ৬১ টি আসন পেতে হয়।

তবে দেশটির ৭২ বছরের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে নি।তাই নিয়ম রয়েছে একাধিক দলকে সাথে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার বা জোট সরকার গঠন করে ক্ষমতায় আসার। 

জোট গঠন করে সরকার ক্ষমতায় আসা ইসরাঈলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোটেই সহজসাধ্য কোন বিষয় নয় ।

বর্তমানে এক ডজনেরও অধিক সক্রিয় নির্বাচনি দল রয়েছে।যাদের প্রত্যেকেরই আবার রাজনৈতিক মতাদর্শে ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। 

যেমন ধরা যাক,বর্তমান কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে যাওয়া ইয়াস আতিদের দল যেখানে বিশ্বাস করে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন নামক দুটি পৃথক দেশ থাকা উচিত সেখানে নাফাতিয়া বেনেতের ইয়ামিনা পার্টি বিশ্বাস করে ফিলিস্তিন নামে কোন দেশ থাকতে পারে না, দেশ থাকলে শুধু একটি থাকবে ইসরাইল ৷

এমন আকাশ পাতাল মতাদর্শভিত্তিক ব্যবধানের কারণেই জোট সরকার তৈরি করা বেশ কঠিনসাধ্য ব্যাপার দেশটিতে। মতাদর্শভিত্তিক ব্যাপক ফারাকের কারণে কোয়ালিশন সরকার গুলোর স্থায়ীত্বও হয় ভঙ্গুর। 

শেষবার, গতবছর মে মাসে তিনদফা নির্বাচনের পর  বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজকে নিয়ে জোট সরকার গঠন করেন। 

জোট গঠনের শর্ত ছিল প্রথম দু’বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, শেষের দুইবছর প্রধানমন্ত্রী হবে বেনি গান্তুজ। তবে গত বছর ডিসেম্বরে বাজেট নিয়ে দু’পক্ষের চরম বিদ্বেষের জের ধরে এ জোট ভেঙে দেন বেনি গান্তুজ। 

এরপর এপ্রিল মাসে নতুন নির্বাচন হলে সর্বোচ্চ ৩০ টি আসন পায় নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। নেতানিয়াহুকে জোট গঠনের জন্য এরপর সময় দেয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ে নেতানিয়াহু জোট গঠন করতে ব্যার্থ হওয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ আসন পাওয়া ইয়ার ল্যাপিডকে জোট গঠনের সময় দেয়া হলে  তিনি এবার নাফাতিয়া বেনেটকে সাথে নিয়ে জোট সরকার গঠনে সমর্থ হন। 

আদর্শগত দিক থেকে ইয়ার লাপিড ও বানাতিয়া বেফেটের দু’দলের মাঝে কোন মিল না থাকলেও ”নেতানিয়াহু হটাও” মন্ত্রে উজ্জিবীত হয়েই মূলত তারা এ জোট সরকার গঠন করে। 

আর তাতেই অবসান হতে যাচ্ছে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতার আসনে বসে থাকা নেতানিয়াহু যুগের। 

জোট সরকার হওয়ায় এবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন দু’জন।প্রথম দু’বছর ক্ষমতায় আসীন হবেন কট্টর জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত নাফাতিয়া বেনেট।

যিনি নেতানিয়াহু থেকেও অধিক কট্টরপন্থী পলিসি মেকার হবেন বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বলাই বাহুল্য, নাফাতিয়া বেনেট ইতিমধ্যেই ইসরাইলের শিক্ষামন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। সৈনিক জীবনে তিনি একজন এলিট ক্লাস কমান্ডোও ছিলেন সেনাবাহিনীতে। 

অপরদিকে ইয়ার লাপিড তূলনামূলক উদারপন্থীই বলা চলে।বেশ কয়েকবছর আগেও তিনি একজন টিভি উপস্থাপক ছিলেন। 

২০১২ সালে টিভি জগতকে ছেড়ে তিনি পা ফেলেন রাজনীতির ময়দানে।গঠন করেন নিজের ইয়েস আতিদ পার্টি।নাফাতিয়া বেনেটের মতো তিনিও ইসরাইলের অর্থ মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। 

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম হটস্পট হিসেবে বিবেচিত ইসরাঈল ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ইসরাঈলীদের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমন তট পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে তার দিকেই মূলত আগামী দিনগুলোতে তাকিয়ে থাকবে পৃথিবীবাসী। 

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button