জীবনীসাম্প্রতিক

কে এই শুভেন্দু অধিকারী!

শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় জনতা পার্টির একজন সদস্য এবং ভারতীয় রাজনীতিবিদ। নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলার জনপ্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম।

প্রাথমিক জীবন

১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কর্কুলিতে জন্মগ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার বাবার নাম শিশির অধিকারী এবং মা গায়ত্রী অধিকারী। তার বাবা শিশির অধিকারী একজন রাজনীতিবিদ এবং দ্বিতীয় মনমোহন সিংহ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, যিনি ২০১৯ সালে কাঁথি আসনে লোকসভা থেকে নির্বাচিত হন। শিশির অধিকারীর হাত ধরেই বাংলার রাজনীতিতে পা রাখে কাঁথি’র অধিকারী পরিবার।

শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির প্রভাত কুমার কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়ার আগে কন্টাই কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।পরবর্তীতে নেতাজি সুভাষ ওপেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। 

রাজনৈতিক জীবন 

১৯৯৫ সালে, প্রথম কনটাই পৌরসভায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে শুভেন্দুর।

২০০৪ সালে, তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে লড়েন তিনি। কিন্তু সেবার দোর্দণ্ডপ্রতাপ বাম নেতা লক্ষ্মণ শেঠের কাছে হেরে যান। এরপর সাফল্য আসে ২০০৬ সালে। ওই বছর এআইটিসির সদস্য হিসেবে ১,৭২,৯৫৮ ভোটের ব্যবধানে সিপিআই (এম) এর শক্তিশালী নেতা লক্ষ্মণ শেঠকে পরাজিত করেন তিনি। বাবার কেন্দ্র কাঁথি দক্ষিণ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধানসভায় পা রাখেন শুভেন্দু। একই বছরে কাঁথি পৌর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও হন তিনি ।

২০০৭ সালে, অধিকারী নন্দীগ্রামে ভূমি-অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সাফল্যের পরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলার দল পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি এই জেলাগুলিতে দলের ভিত্তি প্রসারিত করতে সফল হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে, তিনি তমলুক আসন থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালেও ওই কেন্দ্রে জয় ধরে রাখেন শুভেন্দু।

একের পর এক নির্বাচনে জয়, সেইসাথে সাংগঠনিক দক্ষতায় তৃণমূলের অন্যতম প্রধান কর্মী হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাই নয়, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও শুভেন্দুর দাপট ছিল চোখে পড়ার মত। এই ৪ জেলায় ৯টি লোকসভা কেন্দ্র ও ৬৩টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতাকে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও কাজে লাগিয়েছেন দলনেত্রী। জঙ্গলমহল, মালদা, মুর্শিদাবাদে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ছিলেন শুভেন্দু।

২০১৬ সালের ২৭ মে, দ্বিতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রকের পরিবহণ মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল থেকে অব্যাহতি 

২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর, পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর, বিধান সভার বিধায়ক পদ থেকে পশ্চিমবঙ্গ আইনসভার স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করেছিলেন। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ১৭ ডিসেম্বর তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।

২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজিপি) তে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বছরেই, বিজেপির সদস্য হিসেবে নন্দীগ্রাম (বিধানসভা কেন্দ্র) থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নির্বাচিত হন শুভেন্দু।

এই ঘটনার পর তৃণমূলের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “তরুণ ছাত্রনেতা থেকে শুভেন্দুকে তুলে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার টিকিট কিংবা পরবর্তীকালে লোকসভা নির্বাচনের টিকিট দিয়েছিলেন তিনি শিশির অধিকারীর ছেলে বলেই। নাহলে আজ তাঁকে খুঁজে পাওয়া যেত না।” 

তৃণমূল সূত্রে খবর পাওয়া যায়, দল ছাড়ার ব্যাপারে ৬ মাস আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু। নিজের সংগঠন বাড়ানোর কাজে মন দিয়েছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের জন্যই নাকি তৃণমূলের সঙ্গে শুভেন্দুর দূরত্ব-বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনটাই ধারনা তৃণমূল নেতাদের। দল পরিচালনায় ইদানিং অভিষেকের কাঁধে অনেক গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছেন দলনেত্রী। যে সিদ্ধান্তে মুখভার হয়েছে শুভেন্দুর।

বিতর্কিত যে কারণে

২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হলফনামা অনুসারে, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারি মামলা ছিল। এগুলির একটিতেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। তারপরে তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন মন্ত্রী।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে, সরদা গ্রুপ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ভূমিকার জন্য শুভেন্দু কে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো দ্বারা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সংস্থার একজন প্রাক্তন কর্মচারী অভিযোগ করেছেন যে, কাশ্মীরে পালানোর আগে সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন অধিকারীর সাথে দেখা করেছিলেন। যদিও এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এর পক্ষে কোনো প্রমাণ ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

তথ্যসূত্রঃ 

১. হিন্দুস্তান টাইমস

২. asianetnews.বাংলা

৩.News18 বাংলা

লেখক- সায়মা আফরোজ (নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর AFB Daily)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button