আন্তর্জাতিকসংবাদসাম্প্রতিক

এবার ভারতে করোনা ভ্যাক্সিনের শিশিতে পাওয়া গেল তরল প্যারাসিটামল!

দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারত,  প্রতিদিনই যেখানে করোনা মহামারীর প্রকোপ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সে দেশটিতেই এবার ভ্যাকসিন নিয়ে ঘটে যাচ্ছে লঙ্কাকান্ড। 

জনসংখ্যার অনুপাতে দেশটির কাছে ভ্যাকসিনের যোগান বরাবরই খুবই কম। জনগণের স্বাস্থ্যের ক্রমেই ভয়ানক অবনতি যখন ভ্যাকসিনের চাহিদাকে ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে  ঠিক তখনই ভারতের একটি প্রতারক চক্র এই সুযোগটির সদ্য ব্যবহার করতেই তরল প্যারাসিটামল কে ভ্যাক্সিন হিসেব বাজারে চালিয়ে দিচ্ছে। 

চোরের মা’র বড় গলা অবস্থার মতই আবার এসকল ভুয়া  ভ্যাক্সনের দামই আবার রাখছে প্রতি পিস ৩৫ হাজার টাকা করে। 

 সম্প্রতি ভ্যাক্সিন নিয়ে করা এমন প্রতারক একটি চক্রকেই গ্রেফতার করেছে মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুলিশ। 

পুলিশের দেয়া তথ্য হতে জানা যায়, মহারাষ্ট্রে দিনকে দিন ভয়ানক আকার ধারণ করেছিল করোনা সংক্রমণ । করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হলেও প্রশাসনের কাছে  প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাক্সিনের পরিমাণ ছিল একেবারেই কম। ফলে বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকার দাম বাড়ছিল হুহু করে। এই সুযোগটাই নেয় মহারাষ্ট্রের বারামতি জেলার সে প্রতারক চক্রটি। বাজারে প্যারাসিটামল ভর্তি শিশিকে ভ্যাক্সিন নামে বাজারজাত শুরু করে। 

অবস্থা যখন এতটা নাজুক আকার ধারণ করে তখনই মহারাষ্ট্র পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের ভুয়া ভ্যাক্সিন বিক্রেতাদের একটি আস্তানায় ক্রেতা সেজে হানা দিলে প্রমাণ সহ ধরা পরে প্রতারক সে চক্রটি।

পরে তদন্ত করা শুরু করলে তারা জানতে পারে, ভ্যাক্সিনের শিশিগুলোতে প্রতারক চক্র নিম্নমানের তরল প্যারাসিটামল ব্যাবহার করে যাচ্ছে। 

ভ্যাক্সিন প্রতারণায় ভারতই যে প্রথম তেমনটা নয় এর আগেও চীনে এমন একটি মাফিয়া চক্রকে গ্রেফতার করা হয় যারা মূলত ভ্যাক্সিনের শিশিতে স্যালাইন ঢুকিয়ে বাজারজাত শুরু করে। এবং যার দাম নির্ধারন করে আশি হাজার টাকা করে।  

এমনকি সে চক্রটি বিশ্বের বেশ কিছু দেশে তাদের ভ্যাক্সিনটি রফতানি পর্যন্ত করে ফেলেছিল। 

এখন পর্যন্ত বলা চক্র গুলোত তাও ভ্যাক্সিনের শিশিতে স্যালাইন, প্যারাসিটামল দিচ্ছিল এমনও একটি প্রতারক চক্র দেখা গিয়েছে যারা শিশিতে শুধু পানি দিয়েও ভ্যাক্সিন হিসেবে বাজারজাত করেছে, দৈনিক ইত্তেফাকের তথ্যানুসারে এ চক্রটি ভ্যাক্সিনের ৬০০ টি ডোজ হংকয়ে বাজারজাত করে, সর্বসাকুল্যে যারা এ জাল ভ্যাক্সিন ব্যবসা হতে প্রায় ২৭ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।

মানব ইতিহাসের সবচাইতে প্রতিকূল সময়েও কিছু অসাধু ব্যক্তি মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করতে দ্বিধা করছে না। 

যেখানে আমরা মানুষরাই নিজেদের একজন আরেকজনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে সদা প্রস্তুত সেখানে করোনা ভাইরাসও বোধহয় আমাদের দিকে তাকিয়ে নিরবে হেসে যাচ্ছে! 

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

আরো পড়ুন; আরবের এক লোকের ফল কেনার গল্পঃ-https://cutt.ly/svE83h6

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button