জানা-অজানা

আরবের এক লোকের ফল কেনার গল্প

ইফতারের কিছুক্ষণ আগের মূহুর্ত আরবের এক লোক কিছু ফল কেনার জন্য এক ফল বিক্রেতার কাছে গেলেন। 

ফলের দাম জানার জন্য তিনি এবার দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেন ; 

আপেলের কেজি কত? 

দোকানদার জানাল, ১৫০ টাকা কেজি স্যার। 

এরপর জিজ্ঞেস করলেন, খেজুর??? 

বিক্রেতা জানালেন, ৩০০ টাকা।

বিক্রেতার সাথে ফল নিয়ে দামাদামি করতে করতেই দোকানে এক বয়স্ক মহিলা প্রবেশ করে দোকানদারের কাছে জানতে চাইলেন, 

ভাইজান!  আপেলের কেজি কত করে? 

দোকানদার জানালেন ষাট টাকা! 

খেজুর? বিক্রেতা বললেন – একশ টাকা! 

মহিলা এবার দোকানদারকে বললেন আমাকে এক কেজি করে দিয়ে দিন। 

এদিকে সাথেই দাঁড়িয়ে থাকা পূর্বে আসা পুরুষ ক্রেতাতো একেবারে রাগে ফেঁটে পড়ছেন। একদিকে বিক্রেতা তার কাছে আপেলের কেজি যেখানে চাইছেন দেড়শ টাকা কেজি সেখানেই অন্যদিকে মহিলাটির কাছে চাচ্ছেন মাত্র ৬০ টাকা, খেজুর যেখানে তার কাছে চাইছেন ৩০০ টাকা সেখানে মহিলাকে দিচ্ছেন মাত্র ১০০ টাকায়!  

চোখ রাঙিয়ে দোকানদারকে মারতে যাবে তার আগেই বিক্রেতা পাশে থাকা ক্রেতার মারমুখী হাবভাব দেখে তাকে চোখের ইশারায় হাত জোড় করে বলল, খানিকক্ষণ একটু ধৈর্য্য ধরুন আমি আপনাকে সব বুঝিয়ে বলছি। 

মহিলাটি দোকানটি হতে দাম চুকিয়ে চলে যেতেই পুরুষ ক্রেতাটি এবার দোকানদারের কলার চেপে ধরে বলতে শুরু করল ; 

লোক ঠকানোর আর জায়গা পাও না,  না? আমার কাছে জিনিস বিক্রি করছ দেড়শ টাকায়, তিনশ টাকায় একই জিনিস মহিলাটিকে বিক্রি করছ মাত্র একশ টাকায়, ষাট টাকায়! 

এবার দোকানদার লোকটি বিনীত সুরে বলতে লাগল ভাই,

 আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমি সত্যি করে বলছি আমি আপনার সাথে কোন ধরণের প্রতারণা করি নি। 

যে মহিলাটি মাত্রই আমার দোকান হতে ফল নিয়ে গেলেন তিনি কয়েকজন এতিম বাচ্চার মা। তিনি আমার প্রতিবেশীও ।  মাস খানেক আগেই তাদের বাবা এক বাস দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন । আমি জানি তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর হতেই তাদের পরিবার চালানোতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। 

আল্লাহর রাসূল (স) নিজে ইয়াতিম ছিলেন এবং তিনি সবসময় এতিম দের পাশে থাকতে বলেছেন। আমি চেয়েছি পরিবার টির পাশে দাড়াতে এতিম বাচ্চাগুলোর জন্য কিছু করতে  কিন্তু মহিলাটি এতটাই আত্বসম্মান বোধ সম্পন্ন যে আমি বহু চেষ্টা করেও কোনভাবেই  তাকে আর্থিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারি নি। 

অনেক ভেবে চিন্তে আমি এই পথ বের করেছি  যাতে, আমি এই মহিলা এবং তার এতিম বাচ্চাদের দের সামান্য হলেও  খেদমত করার সুযোগ পাই।  

আমি এগুলো করছি যেন এর উসিলায় আল্লাহ তায়ালা আমাকে নাজাত দেন, কিছুটা সাওয়াব আমার আমলনামায় লিখে দেন। 

আশ্চর্য হলেও সত্য যেদিনই মহিলাটি আমার কাছ থেকে কিছু কিনে নিয়ে যান সেদিনই আমি অস্বাভাবিক হারে লাভবান হই, আমার ফল বিক্রি অনেকটাই বেড়ে যায়, আমার রিযিকে বরকত হয়। 

আমি দেখেছি এতিম বাচ্চাদের সাহায্য করার কারণে আল্লাহই আমার জীবন অধিক সহজ করে দিচ্ছেন৷ 

এদিকে ঘটনাটি শুনে সে ক্রেতাটির চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়ে গিয়েছিল তিনি বললেন আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান করুক। এরপর সে ক্রেতাটি ফল কিনে নিয়ে খুশিমনে চলে গিয়েছিল। 

আজকের এ ঘটনাটি আমরা আপনাদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছি এ আশা রেখে আপনারা আপনাদের আশপাশে থাকা এতিম বাচ্চাদের নিজ সামর্থ্য অনুসারে সাহায্য করার চেষ্টা করবেন। আমাদের বেশিরভাগেরই বাবা রয়েছে কিন্তু এ পৃথিবীতে অনেক শিশুই আছে যাদের কখনো বাবার স্নেহ কপালে জুটে নি। 

আল্লাহ’র রাসূল আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়াও অনেক সম্মানের কাজ। আমরা তাই চেষ্টা করতেই পারি আমাদের আশপাশের এতিম বাচ্চাদের যথাসম্ভব ভালো রাখতে।

আরো পড়ুন;

নাউরো,সকালে ধনী বিকালে ফকির https://cutt.ly/2cBq8mi

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button