ইতিহাস

ওমর ইবনুল খাত্তাব(রা) এর সাথে এক নারীর তর্ক

ওমর ইবনুল খাত্তাবের নাম শুনেছেন কখনো? ইসলামের ইতিহাসের সবচাইতে প্রতাপশালী খলিফা ছিলেন এই মানুষটি। মরুভূমির তপ্ত বালুর উপর দাড়িয়েই মানুষটি শাসন করে গিয়েছেন অর্ধ পৃথিবী।

তিনি এতটাই প্রতাপশালী ছিলেন যে, বলা হতো তার ভয়ে উট পর্যন্ত চলাচলের পথে মলত্যাগ করত না, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যিনি নিজ ছেলের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত নিজ হাতে কার্যকর করেছেন।

সকল মুসলিমরা যখন লুকিয়ে চুকিয়ে মদীনায় হিজরত করছিল এই সিংহহৃদি মানুষটিই মক্কার মূল ফটকে দাড়িয়ে গর্জন করে বলেছিলেন আমি মদীনায় যাচ্ছি,

কারো যদি আমাকে আটকানোর সাহস থাকে সে যেন পর্বতের পিছনে আমার সাথে দেখা করে। এমনই অদম্য এবং অনমনীয় ছিলেন তিনি! 

অথচ এতটা সিংহহৃদী খলিফাই নিজ ভুল মেনে নিজ সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন, তাও সাধারণ কোন এক নারীর কথায় ?

বলছি ১৪০০ বছর আগে ঘটে যাওয়া আব্দুল্লাহ ইবনে মাসয়াব হতে বর্ণিত এক ঘটনা। 

মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা)। শাসনকালের এক পর্যায়ে দেখছিলেন যুবকরা তাদের সম্পদের অনেকাংশই বিবাহের মোহর দিতে ব্যয় করে ফেলছে।

বিষয়টিকে মাত্রাতিরিক্ত অপচয় ভেবে  খলিফা ওমর ঘোষণা করলেন,  তোমরা মেয়েদের মোহরানা চল্লিশ উকিয়ার বেশি কখনই দিবে না, সে মেয়ে ইয়াজিদ ইবনে হুসাইনেরই হোক না কেন।  

বলাই বাহুল্য, ইয়াযিদ ইবনে হুসাইনের মেয়ে তৎকালীন আরবে সেরা সুন্দরী, রূপসী ও বুদ্ধিমতী হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। একই সাথে বিবাহপ্রার্থী যে কোন যুবকের জন্য ছিল প্রথম পছন্দের কোন মেয়ে।

এদিকে ওমর ঘোষণা  করে বসলেন এতটা উচ্চগুণ সম্পন্ন কোন নারীকেও যেন চল্লিশ উকিয়ার বেশি মোহরানা না দেয়া হয়। যদি কেও বেশি দেয় বাকি অর্থটুকু বায়তুল মালে জমা করে নেওয়া হবে। 

এ ঘোষণা শুনে চুপ  করে থাকলেন না একজন মহিলা। তৎক্ষনাৎ অর্ধ পৃথিবীর শাসকের সামনে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে বলে বসল ;

-হে আমিরুল মুমিনীন! এটা আপনি বলতে পারেন না! এ অধিকার আপনার নেই! 

রাষ্ট্রপ্রধানের সামনে এক সাধারণ নারী দাঁড়িয়ে খলিফার দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বলে দিচ্ছে এ বিষয়ে কথা বলার তার কোন অধিকার নেই! 

সবাই হকচকিয়ে গেল! আমিরুল মুমিনীন জিজ্ঞাসা করলেন ;

– এ কথা বলার অধিকার নেই কেন? 

-মেয়েটি এবার দৃপ্ত কন্ঠে বলল ; কেননা আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা তার কিতাবে বলেছেন ;

“আর যদি তোমরা তাদেরকে অঢেল সম্পদও দিয়ে থাকো, তবু তা থেকে সামান্যটুকুও ফেরত নিতে পারো না। তোমরা কি এগুলা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এবং প্রকাশ্য পাপাচারে লিপ্ত হয়ে তা গ্রহণ করবে? [সূরা নিসা-২০]

ওমর রাযিআল্লাহু আনহু মেয়েটির এ কথা শুনে একেবারে থমকে গেলেন। হায়! তিনি কুরআনের বিপরীত কথা বলে ফেলেছেন!

এক মহিলা তাকে শুধরে দিয়েছে। আল্লাহর শুকরিয়া। 

মুসলিম জাহানের খলিফা এবার দৃঢ়তার সঙ্গে ফের  বললেন, 

“হ্যাঁ, একজন মেয়ে ঠিক বলেছে আর ওমর ভুল করেছে। মহরের ক্ষেত্রে যার যত বেশি ইচ্ছা দিতে পারবে। “

এভাবেই রচিত হতে থাকল এক সভ্যতা,মুসলিম সভ্যতা। যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক চাই সে পুরুষ হোক, চাই সে নারী হোক! রাষ্ট্রপ্রধানের চোখে চোখ রেখেই জিজ্ঞেস করতে পারে তার অধিকার কেড়ে নেয়া হলো কেন? 

প্রত্যেক নাগরিকই এ কথা বলতে পারত, বলতে পারত কেননা তাদের এ ক্ষমতা কোন রাষ্ট্র থেকে নয়, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে নয়, দেয়া হয়েছিল বিশ্বজাহানের স্রষ্টা হতে। 

তারা এতটা অধিকার পেয়েছিল যে অর্ধজাহানের শাসক পর্যন্ত একজন নারীর যৌক্তিক দাবির সামনে নিজ ঘোষণা পরিবর্তন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। 

আরো পড়ুন ;

টেক জায়ান্ট গুগলের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল- https://cutt.ly/wxKQj7b

দিদিয়ের দ্রগবাঃঃ যে ফুটবলারের এক কথা থামিয়ে দিয়েছিল যুদ্ধ-https://cutt.ly/qxsP8Ax

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button