প্রযুক্তি

টেক জায়ান্ট গুগলের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল

সময়টা ১৯৯০ এর, স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এ দু’বন্ধুর মাথাতেই এমন কিছু একটা এলো যা পরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল ইন্টারনেট জগতে। ল্যারি পেইজ তাদের তখনকার চিন্তাভাবনা সম্বন্ধে বললে জানা যায় তারা, পুরো পৃথিবীর জন্যই দারুণ কিছু করার মানসে পথ চলা শুরু করেছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্যই ছিলো বিশ্বের সকল তথ্যকে সুবিন্যস্ত করা, যাতে পৃথিবীর যেকেনো ব্যাক্তি তথ্যগুলোতে সহজে প্রবেশ করতে পারে। সার্গেই ব্রেইন এ সম্বন্ধে বলেন, তাদের প্রথম থেকেই ধারণা ছিল এ উদ্যোগটির ব্যাবসায়িক বেশ ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তারা এমন সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করার চেষ্টায় ছিলেন যা দ্বারা তথ্যকে বেশি থেকে বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়া সম্ভব হয়।

বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের কথা বলছি। বর্তমান বিশ্বের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলের কাছেই গুগল শব্দটি সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের জায়গাটি ধরে রাখলেও এর শুরুর গল্পটা কিন্তু মোটেই খুব একটা সহজ ছিলো না। ল্যারি পেজ এবং সার্গেই ব্রেইন নামক দু’বন্ধুর হাত ধরে শুরু হয় কিংবদন্তি এ গল্পটির । মানুষ দু’টি তখন  যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ডে নিজেদের পিএচডি ডিগ্রি নিচ্ছিলেন। সময়টা তখন তাদের এমন যাচ্ছিল, প্রতি পার্টিতেই আকর্ষনীয় কোন জব অফার তাদের দিকে ধেয়ে আসত, এমনকি তাদের বক্তব্য অনুসারে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে এটা মনে করিয়ে দিতে হত যেকোন পরিস্থিতিতেই পড়ালেখা ছাড়া চলবে না।

বিষয়গুলো যতটা সহজ দেখা  যাচ্ছে ততটা কিন্তু মোটেই ছিলো না, তারা এমন এক যুগে সার্চ ইঞ্জিন বানানোর পরিকল্পনা কষছেন যখন ইন্টারনেট জগতে সার্চ ইঞ্জিন বলতে আদৌ কিন্তু কিছুর অস্তিত্বই ছিলো না, “সার্চ” বলতে কিছু ছিলো না, তথ্য খুজে পেতে হলে আপনাকে হাতে তৈরি এক ইনডেক্সের সাহাজ্য নিতে হতো,ইন্টারনেটের দুনিয়া তখন এতটাই ছোট ছিল যে বলা হয়ে থাকে কেও একজন কোন ওয়েবপেইজে লগ ইন করে রাখলে তারা তা লগ করে রাখতেন! ইন্টারনেটের যখন অবস্থা এমনটা তখনকার দিনে পেজ র‍্যাংকিং ব্যবহারের মত জটিল গাণিতিক সমীকরণ এলগরিদম ব্যবহার করে একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরির প্রক্রিয়া পর্যন্ত  নিয়ে আসা সেটি সত্যিই ছিলো অভাবনীয়। যে এলগরিদিমটি কে তারা নিজেদের ব্যাকরাব নামক ওয়েবপেইজে দিয়ে শুরু করেন । 

পেজর‍্যাংকের মূলে যে চমৎকার আইডিয়াটা কাজ করেছে তা হলো – এ ক্ষেত্রে আপনি ওয়েবের গঠনটাকেই ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ অন্য লোক যত বেশি আপনার পেজটির প্রতি আকৃষ্ট হবে ততই আপনার পেজটি শক্তিশালী, বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রধান হয়ে উঠবে।

ব্যাকরাব তখন এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে প্রায়ই চাপ সামলাতে না পেরে স্ট্যানফোর্ডের ইন্টারনেট ক্র্যাশ করতো। ঠিক এসময়টাতে তারা ভাবলেন এবার সার্চ ইঞ্জিন টির একটি নতুন  নাম প্রয়োজন। যেটির জন্য তারা “ব্রেনস্টোর্মিং” সভায় বসলেন, সেখানেই প্রথম গুগল নামটির প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বর্তমান কালের তথাকথিক google নয় প্রস্তাবিত শব্দটি ছিল GOOGOL,  যার অর্থ করলে দাঁড়ায় একের পর একশটি শূন্য। কিন্তু বিধিবাম, সারাদিন কষ্ট করে ঠিক করা নাম সকালে যেয়ে দেখেন কোন এক প্রকৌশলীর ভুলে নামটি লেখা হয়েছে google অর্থাৎ g এর পর একটি O নাই। কি আর করা এ নামটিই টিকে গেল!   কোন অর্থ না থাকা শব্দটিই আজ বিশ্বব্যাপী রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে বলা চলে। 

১৯৯৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর  গুগল ডোমেইন নেমটি রেজিস্টার করা হয়। তার কিছুদিন পরই গুগল এমন এক অদ্ভূত কান্ড ঘটিয়ে বসে যা কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে করাই হয় নি।  বার্ণিং ম্যান নামক ডুডলের মাধ্যমে  গুগল প্রবেশ করে গুগল ডুডল যুগে। পরবর্তী বছরগুলোতে ধীরে ধীরে গুগল নিজের গা থেকে আবদ্ধতার শিকল খুলতে থাকে। প্রথমেই তারা নিজেদের গন্ডি স্ট্যানফোর্ড হতে বের করে এনে মুক্ত বিশ্বে পদচারণা শুরু করেন। বন্ধু,পরিবার,কিছু ইনভেস্টারদের সহযোগিতা নিয়ে জড়ো করেন ১০ লাখ ডলার সাথে সাথে চালু করেন তাদের কোম্পানি। 

প্রথম অফিস ছিল কাছের এক বন্ধুর গ্যারাজে! 

সার্চ ইঞ্জিনটির ব্যবহার আসলেই অনেক সহজ ছিলো।  আপনাকে শুধু ইন্টারফেসে যেয়ে দু’একটি শব্দ টাইপ করতে হত৷ গ্রাহক প্রিয়তার কারণে তাদের কোম্পানির আকার খুব দ্রুতই বাড়তে থাকে৷ আগস্ট ২০০৪ সালে গুগল তাদের নয়া অফিস ক্যালিফোর্নিয়ার গুগলপ্লেক্সে স্থানান্তর করে। সেই একই বছর কোম্পানিটি স্টক মার্কেটে প্রবেশ করে। 

ভাবতে অবাক লাগলেও এতটা যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ফেলা দুই অমর বন্ধু সার্গেই ব্রেইন এবং ল্যারি পেইজ কিন্তু মোটেই সমজাতীয় ছিলেন না। তাদের কাছের বন্ধুদের কাছ থেকে জানা যায় তারা দু’জনেই ছিলেন অদ্ভূত ধরণের, সারাক্ষণ নিজেরা নিজেরা ঝগড়ায় লেগেই থাকতেন।  হয়ত অদ্ভূত ছিলেন বলেই বলেই গুগলের মত অদ্ভূত জিনিস বানিয়ে ফেলতে পেরেছিলেন এরা। ক্ষুদ্র গ্যারাজ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে  তারা আজ এমন একটি প্রতিষ্ঠান  হিসেব্ব দাড় করতে পেরেছেন যা আজ পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে, ছোট্ট একটি বিজ্ঞাপন দিয়েও আয় করে যাচ্ছে লাখো ডলার। 

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

আরো পড়ুন;

দিদিয়ের দ্রগবাঃঃযে ফুটবলারের এক কথায় থেমে গিয়েছিল যুদ্ধ; https://cutt.ly/qxsP8Ax

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button