জীবনী

আল-যাযিরার প্রতিবেদনে দেখা যাওয়া কে এই তাসনীম খলীল?

সম্প্রতি আল-যাযীরার করা “all the prime minister’s men” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যাতে তাসনীম খলীল নামক একজন ব্যাক্তিকে দেখা যায়। আজ আমরা এই তাসনিম খলীল সম্পর্কেই জানার চেষ্টা করব।

তাসনিম খলীল পেশায় একজন সাংবাদিক, যিনি বর্তমানে নির্বাসনে আছেন বলা চলে। মানুষটি ১৯৮১ সালের দিকে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি হতে পড়াশোনা করেন এবং পরে সুইডেনের মালমো বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রি নেন।

কর্মজীবনে তাসনিম খলীল ২০০০ সাল হতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি “সিএনএন” এর স্ট্রিংগার, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি বর্তমানে সুইডেন ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা “দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট” ও “নেত্র নিউজ” এর সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।

তাসনিম খলীল ২০০৭ সালের ১১ই মে বাংলাদেশ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তিনি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিএফআই” দ্বারা গ্রেফতার হন। কোন প্রকার গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই সাদা পোশাক পরিহিত কিছু মানুষ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে তার তৎকালীন বেশ কিছু লেখা নিয়ে ভয়াবহ টর্চার করে। এছাড়াও বাসায় থাকা তার সকল ধরণের পাসপোর্ট, কম্পিউটার, সাংবাদিকতায় ব্যবহৃত কাগজপত্র, ইলেক্ট্রনিক ইকুইপমেন্ট এবং টেলিফোন বাজেয়াপ্ত করে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কমিশনে ইন্টারভিউ  দিলে তাসনীম খলীলের সে রাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা যায়, তারা তাকে তার নিজস্ব ব্লগ tasneemkhaleel.com এর লেখার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, গ্রেফতারের কিছুদিন পূর্বেই “ডেইলি স্টারে”  প্রকাশিত তার কিছু লেখা নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। একই সাথে তার চোখ বেধে রেখে তাকে ব্যপক মারধরও করা হয়েছিল। গ্রেফতারের পর থেকেই তার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বন্ধুরা সোচ্চার হয়ে উঠে নানা বিবৃতি দেয়া শুরু করলে   মুক্তি পান তাসনিম খলীল। গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ১২ ঘন্টার মাঝেই বাংলাদেশী গোয়েন্দা সংস্থা “ডিজিএফআই”  এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া তিনিই  একমাত্র ব্যাক্তি।

ডিজিএফআই থেকে রক্ষা পেয়ে প্রথম সুযোগেই দেশ ছাড়েন তাসনিম খলীল। আল-যাযিরার সম্প্রতি করা “all the prime minister’s men” প্রতিবেদনটি ছাড়াও তাকে বছর খানেক আগের আল-যাযিরারই একটি বিখ্যাত অনুষ্ঠানে দেখা যায়। যেটি “মাহদী হাসান” দ্বারা সঞ্চালিত “head to head” নামের অনুষ্ঠান ছিলো।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন উপদেষ্টা “ডঃগওহর রিজভী” কে নিয়ে আসা হয় সেখানে । যেখানে তাসনিম খলীল বাংলাদেশে ভোটের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বেশ কিছু মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

বর্তমানে তাসনিম খলীল নামক এ নির্বাসিত সাংবাদিক সুইডেনের আরেব্রোতে বসবাস করছেন। জাতীয়তায় বাংলাদেশী হলেও তিনি সুইডেনের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। নাগরিকত্ব ও স্থায়ীত্ব সুইডেনে হলেও তার সকল কাজকর্ম বাংলাদেশকে ঘিরেই। ইতিমধ্যেই তাসনীম খলীল নামক এ মানুষটির বিভিন্ন প্রবন্ধ, আর্টিকেল নিউইয়র্ক টাইমস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ফোরাম সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে।

মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ খাঁন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

আরো পড়ুন;

নারীত্বের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বিবি খাদিজা(রা); https://cutt.ly/XkCLnzf

Show More

MK Muhib

A researcher,An analyst,A writer,A social media activist,student at University of dhaka.

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button