সংবাদসাম্প্রতিক

কে এই আলোচিত নিক্সন চৌধুরী

মজিবুর রহমান চৌধুরী, একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, যিনি ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য। রাজনৈতিক অঙ্গনে নিক্সন চৌধুরী নামেই সমধিক পরিচিত এই ব্যক্তি।

মজিবুর রহমান চৌধুরী ১৯৭৮ সালের ৩ মার্চ, মাদারীপুর জেলার শিবচরের দত্তপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম, ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী। যিনি মাদারীপুরের শিবচরের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মায়ের নাম ফিরোজা বেগম। তার দাদী ফাতেমা বেগম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোন ছিলেন। তার ভাই নূর-ই-আলম চৌধুরী মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য।

নিক্সন চৌধুরী ঢাকা কলেজ থেকে পড়াশোনা করেন। সাংসদদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে তিনি এসএসসি পাস বলে উল্লেখ করেছেন।

নিক্সন চৌধুরী পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর একজন সক্রিয় সদস্য।

১৯৯৭ সালে, মুনতারিন চৌধুরী কে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল, মুনতারিন চৌধুরী রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মেয়ে, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশক তারিন হোসেনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিংহ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, ফরিদপুর-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফর উল্যাহকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নিক্সন চৌধুরী। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ফরিদপুর-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য।

২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর, নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনের বিরুদ্ধে মামলা করে ইসি।

ইসি সূত্র মোতাবেক, গত ১০ অক্টোবর ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচন কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের হুমকি এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের গালাগাল করেন নিক্সন চৌধুরী। পরবর্তীতে এই ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অশোভন আচরণের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

সূত্র আরও জানায়, ওই চিঠি পর্যালোচনা করে কমিশন সচিবালয় উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিক্সন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। বাড়াবাড়ি রকমের এডিট করে হুমকির ভিডিও প্রচার করে তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি করেন নিক্সন চৌধুরী।

এরপর গত ১৮ অক্টোবর নিক্সন চৌধুরী হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ৮ ডিসেম্বর, ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সেলিম মিয়ার আদালত তাকে জামিন দেন।

সম্প্রতি নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা, যদিও এই অভিযোগ কে সম্পূর্ণ পাগলের প্রলাপ বলে আখ্যায়িত করেছেন নিক্সন চৌধুরী। 

লেখক- সায়মা আফরোজ (নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর AFB Daily)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button