আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান, ধর্মঘটে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সামরিক এই অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে দেশটির চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অন্তত ৩০টি শহরের ৭০টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন। আজ বুধবার থেকে তাঁরা সামরিক শাসনের অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সেনাশাসনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন একজন চিকিৎসক। তরুণ ও শিক্ষার্থীরা অসহযোগ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। এ ছাড়া ইয়াঙ্গুনে বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন।

সেনাশাসনে ক্ষুব্ধ সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সেনা কর্তৃপক্ষ আমাদের দরিদ্র রোগীদের প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে; ফলে আমরা তাদের যেকোনো আদেশ প্রত্যাখ্যান করছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত চারজন চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা সেবা দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। ২৯ বছর বয়সী ইয়াঙ্গুনের একজন চিকিৎসক রয়টার্সকে বলছিলেন, ‘আমি চাই সেনা সদস্যেরা তাদের ছাউনিতে ফিরে যাক; না হলে আমি হাসপাতালে ফিরতে পারছি না।’

‘এই ধর্মঘট কতদিন ধরে চলবে সে ব্যাপারে আমার কোনো সময়সীমা জানা নেই। এটা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর’, যোগ করেন চিকিৎসক।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর থেকে সু চিকে দেখা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিসহ নির্বাচিত সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করে গতকাল সোমবার দেশটির ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গত নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ক্ষমতা দখলে নেয় সেনারা। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সেনাপ্রধান ও সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। সেনাবাহিনীর দাবি, সু চির দল এনএলডি অনিয়ম করে ওই নির্বাচনে একচেটিয়া জয়লাভ করেছে।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button