ইতিহাস

আফগান বনাম আমেরিকা যুদ্ধের ইতিহাস এবং তালেবানদের বিজয় !

আফগানিস্তান স্বাধীনতার প্রায় ১০০ বছর পূরণ হয়েছে ২০২০ সালে। ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা পেলেও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষাক্ত লড়াইয়ের কারণে কখনোই স্বাধীনভাবে বাঁচার স্বাদ পায়নি আফগানরা। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে করা ৯ বছরের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১৮ বছরের চলমান যুদ্ধ এবং গৃহযুদ্ধ সবমিলিয়ে প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের নাগরিকরা ছিল যুদ্ধের বেড়ায় বন্দি।

আজকে কথা বলবো দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলমান আফগান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে। আফগানিস্তান হলো এমন একটি দেশ যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র,পাকিস্তান,ইরান,সৌদি আররের মত বড় বড় সাম্রাজ্য তাদের পদচিহ্ন রেখেছে। কিন্তু এ সাম্রাজ্যগুলোর একটিও আফগানিস্তানকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের করতলে নিতে পারেনি । যার কারণে আফগানিস্তানকে বলা হয় The grave of the empires.

আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র বনাম আফগানিস্তান যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে ঘড়ির কাঁটা উল্টে ফিরে যেতে হবে ১৯৮৮ সালের দিকে, যখন জেনেভা চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান থেকে তাদের সৈন্য ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। সোভিয়েত সৈন্যরা দেশে ফেরত যাওয়ার কিছু সময় পরে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের সাথে মিত্রতা ভেঙে ফেলে ও পূর্বের সোভিয়েত বনাম আফগান যুদ্ধে সোভিয়েতদের ঠেকাতে আফগান ভূমিতে প্রেরণ করা নিজ সৈন্যবাহিনী ফিরিয়ে নেয়। এমন সময় ক্ষমতায় আসে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নাজিবুল্লাহ আহমাদ জাই। মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নই নাজিবুল্লাহ কে ক্ষমতার আসনে বসায় । যার কারণে আফগানিস্তানের ইসলামপন্থী মুজাহিদ দলগুলোর নাজিবুল্লাহর প্রতি চরম অনাস্থা ছিল। নাজিবুল্লাহ ইসলামী দলগুলোর সাথে শান্তি চুক্তি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন আবার আরেক দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। কিন্তু দিনকে দিন নাজিবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ এবং অন্যায়ের অভিযোগ আসতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ১৯৯২ সালে নাজিবুল্লাহ গঠিত সরকার ভেঙে যায়।

এদিকে,মুজাহিদিনদের বিভিন্ন দল রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য  কাবুলে একটি চুক্তির প্রস্তাব জানায়। চুক্তি তে  রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে মুজাহিদিনদের অন্যতম একটি দলের প্রধান মাসুদ প্রস্তাব দিয়েছিল যে, সকল দল প্রধান মিলে একটি জোট বা মৈত্রী সংগঠন গঠন করা হবে এবং একসাথে ইসলামি শরীয়া অনুযায়ী আফগানিস্তান শাসন করা হবে।  মুজাহিদীনদের সকল দল প্রধান এই প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও গুলবুদ্দীন হেকমতয়ার এই প্রস্তাবে সম্মতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় । তিনি একাই আফগানিস্তান শাসন করতে চেয়েছিলেন। যার ফলে মুজাহিদীনদের প্রধান দুটি দলের মধ্যে খন্ড যুদ্ধ চলতে থাকে । গুলবুদ্দীন হেকমতয়ারকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৯৪ সালের দিকে হঠাৎ আরেকটি মুজাহিদীনদের দল আত্মপ্রকাশ করে । তাদের নেতা ছিল মুহাম্মদ মোল্লাহ ওমর । এই দলটি নিজেদেরকে তালিবান পরিচয় দিতে থাকে । পাকিস্তান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার এর পক্ষ ত্যাগ করে তালিবান দলটির পক্ষ নেয়। ১৯৯৬ সালের মধ্যে তালিবান দলটি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল শহর সহ দেশটির অধিকাংশ অঞ্চল নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় । প্রথম দিকে তালিবানদের পতাকা শুধু সাদা ছিল। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে তাতে শাহাদাতের চিহ্ন যুক্ত করা হয়।

একই সালে তারা দেশটির পূর্বের রাষ্ট্রপতি নাজিবুল্লাহ ও তার ভাই কে কাবুলে জনসম্মুখে ফাঁসি দেয় এবং আফগানিস্তানকে একটি স্বাধীন ইসলামী শরিয়া পরিচালিত দেশ হিসেবে ঘোষণা করে ।দেশটির অধিকাংশ অঞ্চল তালিবানদের কর্তৃত্বে থাকলেও দেশটির উত্তরাঞ্চল ছিল মাসুদের কর্তৃত্বে। তিনি তার অল্প সংখ্যক সঙ্গী সাথীদের নিয়ে তালিবানদের প্রতিহত করতে থাকেন।পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তালিবানরা আফগান রাজধানী কাবুলে ক্ষমতাসীন ছিল কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র তিনটি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল। পাকিস্তান,সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আফগানিস্তান জাতিসংঘের স্বীকৃতি হারিয়েছিল। ইরান, তুরস্ক,রাশিয়া,যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ার অধিকাংশ দেশ তালিবান শাসনের বিরোধিতা করেছিল,এমনকি তালিবানবিরোধী আফগান অ্যালায়েন্সকে সাহায্য করেছিল।

এর কিছু বছর পর  ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ কিছু তালিবান সদস্য সাংবাদিকের বেশ ধরে মাসুদ কে হত্যা করে । মুজাহিদীনদের কয়েকটি দলের সম্মিলিত জোট বা মৈত্রী সংগঠনের প্রধান নেতা ছিলেন মাসুদ, আর তাই তার মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে তার তৈরিকৃত দলগুলোর এই জোটটি ভেঙে পড়ে।

মাসুদ এর মৃত্যুর ঠিক দুই দিন পরেই ঘটে সম্পূর্ণ নাটকীয় একটি ঘটনা । ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রর নিউইয়র্কে কয়েকটি ভয়াবহ হামলা হয় , যা ইতিহাসের পাতায়  নাইন- ইলেভেন নামে সুপরিচিত ।নাইন-ইলেভেনের ভয়াবহ ঘটনায় ধ্বংস হয়েছিল নিউইয়র্কে অবস্থিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দুটি ভবন, যা ‘টুইন টাওয়ার’ নামে পরিচিত ছিল। ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ১৯ জন জড়িত ছিল, যাদের প্রায় সবাই ছিল সৌদি, ইয়েমেনি ও মিসরের নাগরিক। মোট চারটি বিমান তারা হাইজ্যাক করেছিল, এর মধ্যে দুটি (আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট নং এএ১১ ও ইউনাইটেড এয়ার ফ্লাইট নং ১৭৫) নিউইয়র্কের টুইন-টাওয়ারে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এছাড়া একটি বিমান পেনসিলভেনিয়া স্টেট ও অপরটি ভার্জিনিয়া স্টেটে বিধ্বস্ত হয়েছিল। বলা হয়, হোয়াইট হাউসে একটি বিমান বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু তা পেনসিলভেনিয়ায় ভেঙে পড়ে। টুইন টাওয়ারের ঘটনায় মারা যায়  ২ হাজার ৯৯৬ ব্যক্তি, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩ জনের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ ইস্যু করা হয়েছিল। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল বেসামরিক ব্যক্তি, নারী ও শিশু। নিহতদের মধ্যে আরও ছিলেন ৩৪৩ জন দমকল কর্মী ও ৬০ পুলিশ কর্মকর্তা। পেন্টাগনে আত্মঘাতী বিমান হামলায় তখন ১৮৪ জন নিহত হন। হামলায় যারা প্রাণ হারান তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন না বরং ওই হামলায় ৭০টি দেশের মার্কিন প্রবাসীরাও নিহত হন। টুইন টাওয়ার হামলায় ৪০ জন বাংলাদেশিও মারা যায়। উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে যারা আহত, অসুস্থ এবং বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৮৩৬ জন পরে মৃত্যুবরণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ এবং আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে যে এই ভয়াবহ হামলা ওসামা বিন লাদেন পরিচালিত আল কায়েদা নামক মুজাহিদিনদের দল করেছে। তারা আল কায়েদা কে জঙ্গী দল হিসেবে নামকরণ করে। কিন্ত আল কায়েদা উক্ত হামলার দায় অস্বীকার করে। তাদের দাবি উক্ত হামলা একটি প্রকাশ্য চক্রান্ত। তারা আরও দাবি করে যে, এর সাথে আল কায়েদার কোনো সম্পর্ক নেই।  আল জাজিরা ২০০১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে ওসামা বিন লাদেনের এক বক্তব্য প্রচার করে, যেখানে তিনি বলেন, “আমি জোড় দিয়ে বলছি যে আমি এই কাজ করিনি, মনে হয় কেউ তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছেন।” এতদসত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবীর উপর অচল থাকে। যেহেতু তালিবানরা আফগানিস্তানে আল কায়েদা দল এবং এর দল প্রধান ওসামা বিন লাদেন কে আশ্রয় দিয়েছিলো, তাই যুক্তরাষ্ট্র তালিবান দের কাছে ওসামা বিন লাদেন এবং তাদের সংগী সাথীদের হস্তান্তরের জন্য হুমকি দেয়। তালিবানরা তাদের হুমকি ধামকি কে পাত্তা না দিলে জর্জ বুশ তথাকথিত জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য মোতায়েনের নির্দেশ দেন। এই মার্কিনরাই আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের কে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে স্বার্থের খাতিরে সাহায্য করেছিলো, সেই তারাই আবার চক্রান্ত করে মুজাহিদিনদের কে জঙ্গী বলে আখ্যায়িত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সোভিয়েত সৈন্যদের মত মার্কিনরাও জঙ্গীবাদ এবং বিদ্রোহ দমনের মত মিথ্যা উসিলা দিয়ে নিজ সৈন্যদের আফগানিস্তানে প্রেরণ করে। আসলে তাদের মুল টার্গেট ছিল আফগানিস্তান দখল এবং সেখানে মার্কিন শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যদিও আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন নাইন-ইলেভেনের ঘটনার সাথে নিজ দলের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছিলেন, তবে তিনি মার্কিনদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশংসাও করেছিলেন। ২০০১ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ওসামা বিন লাদেনের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। এই ভিডিওতে তিনি বলেন: “এটি স্পষ্ট যে ইসলামের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘৃণা রয়েছে… এটি ক্রুসেডারদের ঘৃণা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য কারণ এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা, যারা আমাদের লোকজনদের হত্যা করছে… আমরা বলি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাপ্তি আসন্ন, বিন লাদেন বা তার অনুসারীরা জীবিত থাকুক বা মৃত, মুসলিম উম্মাহ জেগে ওঠেছে।” নিজ দেশকে  বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য আফগানিস্তানের মুজাহিদীনরা আরেকবার জেগে ওঠে অস্ত্র হাতে।  আর এভাবেই সুচনা হয় যুক্তরাষ্ট্র বনাম আফগানিস্তানের দীর্ঘ যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রথম দিকে বিজয় সুনিশ্চিত ভেবে যুক্তরাষ্ট্র পুরোদমে তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু মাঝপথে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে ধীরে ধীরে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিলে তালিবানরা বিশ্বের সকলকে হতবুদ্ধি করে তুলে। প্রায় ১৮ বছর ধরে চলে থাকে এই বীভৎস যুদ্ধ। এক পর্যায়ে বৃহত্তর ক্ষতি হতে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালিবানদের সাথে সমঝোতায় আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অবশেষে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে।

এই যুদ্ধে মার্কিন দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি অর্থনৈতিক খাতে হলেও সামরিক খাতেও কম ক্ষতি হয়নি। মার্কিন সহকারী হিসাব বলছে যে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে এক লাখ মার্কিন সেনা ছিল। যার কারণে বছরে যুদ্ধের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে ৪০ বিলিয়ন ডলার, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসাব মতে, ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ব্যয় হয়েছে ৮৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সবমিলিয়ে ২০০১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। অন্যদিকে, ২০০১ সালে তালিবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ২৩০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ২০ হাজার ৬৬০ সেনা আহত হয়েছে বলে জানা যায়। সরকারি হিসাব মতে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ আফগানিস্তানে প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা আহত ছিল। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেন যে ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজারেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত হয় বলে জানানো হয়। আফগানিস্তানে থাকা জাতিসংঘের সদস্য উনামা বলেছেন, ২০০৯ সালে তারা হিসাব শুরু করার পর এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে।

তালিবান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে ক্ষমতা দখল নিয়ে আফগানিস্তানে আবারও গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে। কেননা যুদ্ধের পর তালিবানদের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলেও তা সম্পূর্ণ মুছে যায় নি। বরং কিছু কিছু অঞ্চলে তাদের শক্তি আগেরকার মতোই রয়ে গিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে, পাহাড় পর্বত ঘেরা এ দেশটির মানুষের কাছে বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

তথ্য সূত্র :

উইকিপিডিয়া

যুগান্তর ডট কম

বিবিসি ডট কম

যমুনা টিভি

দা গার্ডিয়ান ডট কম

প্রথম আলো

হিস্টোরি ডট কম

ফিচার ডট কম

টিআরটি ডট কম

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button