জানা-অজানাআন্তর্জাতিকসংবাদ

নিলামে বউ বিক্রি হয় যে সব বাজারে !

নিলামে গাড়ি-বাড়ি বিক্রি হওয়ার কথাতো আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু একটু ভেবে দেখুনতো নিলামে যদি বউ কিনতে পাওয়া যেতো তাহলে কেমন হতো? হ্যা, এমনটাই হচ্ছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। বাজার থেকে আমরা যেমন নিত্যদিনের পণ্য কিনছি ঠিক তেমনিভাবেই এই বিশ্বেরই অনেক প্রান্তে সুলভ মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে বউ। ভালো, নামকড়া ব্র্যান্ডের পোশাকের যেমন বাজারে মূল্য ও চাহিদা বেশি তেমনি মেয়ে যতো সুন্দরী বউ এর হাটে তার চাহিদা আর মূল্য ততোই বেশি। পুরুষ যতোই অসুন্দর বা বয়স্ক হোক না কেন সে সবথেকে সুন্দরী মেয়েকে তার স্ত্রী হিসেবে পেতে পারবে যতোক্ষণ না তার হাতে টাকা আছে। হ্যা, টাকার বিনিময়েই এখানে পাওয়া যায় রূপবতী সব কনে। এমনকি অন্যান্য সব পণ্যের মতোই বউ এর বিজ্ঞাপনও দেয়ার ব্যবস্থা থাকে। এমনকি বিভিন্ন মেয়াদে বউ ভাড়া করাও যায়। চলুন জেনে নেই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়া থাকা অদ্ভুত সব বিয়ের প্রথাঃ

১। কন্ট্রাক্ট ম্যারেজঃ

অনেক তরুণই বিয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে যেতে চায় না বা কারো সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে চায় না। বিয়ে জীবনে অনেক দায়িত্ব কর্তব্যও বাড়িয়ে দেয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আবার অনেকটাই ব্যয়বহুল ও ঝামেলার কাজ। তাদের জন্য কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ বা স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে বিয়ের ব্যবস্থা প্রচলিত আছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের গোয়ালিয়র বিভাগের শিবপুরী জেলায়। এই প্রথা তাদের ওখানে অনেকদিন ধরেই প্রচলিত ও জনপ্রিয়। কেউ যদি বিয়ে করে চিরতরে দায়বদ্ধ হতে না চায় তবে সে বিভিন্ন মেয়াদী চুক্তিতে নিজের পছন্দ মত মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। চুক্তিতে বিয়ে করা, নারী কেনা-বেচার মতোই আইনের চোখে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য। কিন্তু ভারতের শিবপুরী জেলায় পুরুষরা দীর্ঘকাল ধরে এভাবেই কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করে আসছে। তারা চুক্তিপত্রেও সই করে নেয়। চুক্তিপত্রে বিয়ের সময়সীমা ও অন্যান্য শর্তাবলী উল্লেখ করা থাকে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চাইলে নতুন করে চুক্তি করতে পারে। চুক্তিপত্রের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে মেয়েটিকে তার পূর্বের স্বামীর কাছে ফেরত যেতে হয়।

২। মানি ওয়াইফঃ

নাইজেরিয়ার একটি সম্প্রদায় টাকার বিনিময়ে অল্পবয়সী মেয়েদের বিক্রি করে দেয় এবং তাদেরকে অনেকটা দাসীর মতোই ব্যবহার করে, এমনকি তাদের সাথে যৌন সম্পর্কও স্থাপন করে। এই প্রথাটিকে বৈধতা দিতে নাইজেরিয়ার সর্ব দক্ষিণের ক্রস রিভার রাজ্যের বিশিভ সম্প্রদায় এই প্রথাকে মানি ওয়াইফ নাম দিয়েছে। এই প্রথায় টাকার বিনিময়ে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ের নামে কিনে নেওয়া হয়। সাধারণত দরিদ্র পরিবারের মা-বাবা কিছু টাকার জন্য বা ঋণ পরিশোধ করতে তাদের কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দেয়। বিক্রি হয়ে যাওয়া মেয়েরা তার স্বামির পরিবারের নিজস্ব সম্পত্তি হয়ে যায়। তাদেরকে কৃতদাসের মতো ব্যবহার করা হয়। তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলোও থাকে না। মানি ওয়াইফ হিসেবে বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরে শিশুটি আর স্কুলে যেতে পারেনা। তাদের মধ্যে কেউ যদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায় তাহলেও তাদের মাতৃকালীন স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করা হয় না। মানি ওয়াইফকে দিয়ে তার মালিক চাইলে যেকোনো কিছুই করতে পারে, এমনকি তাকে হত্যা করারও অধিকার রাখে। বিশেবে সম্প্রদাইয়ের বেশিরভাগ গ্রাম প্রধানরাই মানি ওয়াইফ রাখে ও তাদের যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করে।

৩। ব্রাইডাল মার্কেটঃ

পূর্ব ইউরোপের রোমা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত কালাইদঝি গোত্রের মানুষদের মধ্যে মেলায় বিভিন্ন শখের জিনিস কেনাবেচার মতোই বউ কেনাবেচার প্রথা প্রচলিত আছে। দূরথেকে মেলাটি দেখতে অন্যান্য যেকোনো মেলার মতোই সাধারণ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে দোকানীরা বিভিন্ন জিনিসের পশরা সাজিয়ে বসেছে। কাছে গেলেই দেখা যাবে আকর্ষণীয় সাজে সজ্জিত কিছু তরুণীরা অন্যান্য পণের মতো নিজেদের প্রদর্শন করতে ব্যস্ত। র‍্যাম্পে ফ্যাশন শো করার মতো করেই তারা নিজেদের প্রদর্শন করছে আর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অভিভাবকরা তাদের দাম হাকছে, অনেকটা নিলামের দরেই। মেয়ে যতো সুন্দরী তার বাজার দরও ব্রাইডাল মার্কেটে বেশি। কুমারী মেয়েদের বিয়ে দিতেই অভিভাবকরা তাদের ব্রাইডাল মার্কেটে নিয়ে আসে এবং বেশ ভালো দামেই তাদের বিক্রি করে। শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও কালাইদঝি সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এই উপায়ে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা বেশ স্বাভাবিক। ১৩ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েদের চাহিদা ব্রাইডাল মার্কেটে অনেক বেশি, তাদের দামও চড়া। মেয়ের বয়স বেশি হলে তার দামও কমতে থাকে। সাধারণত বছরে ৩/৪ বার ব্রাইডাল মার্কেটের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বসন্তে মেলার আমেজ একটু বেশিই আকর্ষণীয়। শহরের কেন্দ্রে ফাঁকা মাঠেই এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা বসতে না বসতেই অভিভাবকরা তাদের যুবতী মেয়েদের সাজিয়ে গুছিয়ে মেলায় নিয়ে আসে। কনে প্রদর্শনের জন্য মঞ্চ আগে থেকেই তৈরী করা থাকে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিয়ে করতে পুরুষেরা এই মেলায় আসে। কোনো পুরুষ যদি কোনো মেয়েকে পছন্দ করে কিনে নেয় তাহলে সেখানেই অভিভাবকরা তার মেয়েকে পুরুষটির হাতে তুলে দেয়। বিয়ের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয় না।

৪। গ্রীষ্মকালীন বউঃ

গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে গিয়ে যদি সেখানে বউ পাওয়া যায় তাহলে কেমন হবে ভাবুন তো? এমনটাই হচ্ছে মিশরের কিছু জায়গায়। গ্রীষ্মকালে ছুটি কাটাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যেমন সৌদি আরব, কাতার, ওমান থেকে অনেকেই মিশরে ভ্রমণ করে। কিন্তু মুসলিম দেশগুলোতে বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক একেবারেই নিষিদ্ধ। তাই নিজের যৌন চাহিদা মেটাতে ধনী দেশ থেকে আগত পর্যটকরা কিশোরী মেয়েদের সাময়িকভাবে বিয়ে করে থাকতে পারে। মিশরে এই মেয়েরা গ্রীষ্মকালীন বউ হিসেবে পরিচিত। দরিদ্র অভিভাবকরাই তাদের মেয়েদের কিছু অর্থের লোভে বিদেশী পর্যকটকদের হাতে তাদের মেয়েদের তুলে দিচ্ছে। এর বিরূদ্ধে সঠিক আইন না থাকায় বিয়ের নামে এই পতিতাবৃত্তি দিনদিন বেড়েই চলছে। কিশোরী মেয়েদের অল্প কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে দালালরাই তাদের এই পেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মিশরে গ্রীষ্মকালীন বউ এর প্রথা দির্ঘদিনের পুরোনো। সঠিক আইনের অভাবে অপরাধীদেরও শাস্তি দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা এই দেশটিতে তাই বিয়ের নামে এই জঘন্য ব্যবসার কোনো ইতিও টানা যাচ্ছেনা।

৫। চীনের ম্যারেজ ব্যুরোঃ

বিয়ের জন্য বিজ্ঞাপন তাও আবার আকর্ষণীয় সব অফারের সাথে! এও কি সম্ভব? কিন্তু এমন বিজ্ঞাপনই দিচ্ছে চীনের ম্যারেজ ব্যুরো। তাদের দাবি, মাত্র ৩২ হাজার ডলারেই পাওয়া যাবে বউ সাথে একটি পালিয়ে গেলে আরেকটি ফ্রী-র মতো দুর্দান্ত অফার। চীনের একটি সাম্প্রতিক সার্ভেতে দেখা গেছে চীনে প্রতি ১১৮ জন পুরুষের জন্য ১০০ টি নারী আছে। চীনে নারী-পুরুষের এই ভারসাম্যহীনতার জন্যই চীনে ভিয়েতনামী মেয়েদের চাহিদা বাড়ছে। ম্যারেজ ব্যুরোগুলা মাত্র ২ লক্ষ ইউয়ানের বিনিময়েই যেকোনো চাইনিজ বরের জন্য ভিয়েতনামী কনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। সম্প্রতি নতুন একটি অফারও চালু করা হয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে যদি কোনো মেয়ে বিয়ের পর পালিয়েও যায় তাহলে এক বছরের জন্য নতুন কনেও দেয়া হবে সম্পূর্ন ফ্রীতে। অনেকেই তাদের ভিয়েতনামী স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন করে। অনেকে আবার তার স্ত্রীকে পতিতালয়ে বিক্রিও করে দেয়। ভিয়েতনামি কনেরা থাকে বন্দিদশায়। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতেই অনেক কনে পালিয়ে যায়। এই কারণেই ম্যারেজ ব্যুরোগুলো নতুন অফারটি চালু করেছে। তারা এমনকি কনের সতীত্বের নিশ্চয়তাও দেয়।

বিয়ের নামে এমন নারী পাচার, পতিতাবৃত্তি সমগ্র বিশ্ব জুড়েই প্রচলিত। কিন্তু কোনো কোনো সংস্কৃতিতে এদের আবার প্রথা নামকরণ করা হয়ে থাকে। এই অমানবিক প্রথার কারণে অনেকেই তাদের জীবনে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই প্রথার দোহাই দিয়ে কতো কিশোরীদের তাদের স্বপ্নের বিসর্জন দিতে হচ্ছে। বিয়ের নামে তাদের দাসী বা ভোগের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অল্পবয়সী কিশোরীদের মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া বা তাদের ভোগপন্য হিসেবে ব্যবহার করা কোনো দেশের কোনো সংস্কৃতিতেই গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া উচিৎ না।

আফিয়া জাহান ( নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর AFB Daily )

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button