প্রযুক্তিইতিহাস

ভয়ংকর বায়োলজিক্যাল ওয়েপেনের সাতকাহন !

অস্ত্র ব্যবহারের কত গুলা উদ্দেশ্য এর মাঝে একটা হচ্ছে নিজেকে অন্য বিপদজনক ব্যাপার থেকে রক্ষা করা এবং অপরটি হচ্ছে অন্যকে অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আঘাত করা । সেই মানব সভ্যতার শুরু দিক থেকেই অস্ত্র ব্যবহার হয়ে আসছে ।। সময়ের পরিক্রমায় অস্ত্র ব্যবহারের বিভিন্ন দিক মাধ্যম অনেক উন্নত হয়েছে ।। অনেক যুদ্ধে অনেক রকমের অস্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে ।আমরা যদি আধুনিক এই সময়ের তিনটা মারাত্নক অস্ত্র সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি তাহলে আমরা পাবো এনবিসি ( NBC ) বা নিউক্লিয়ার , বায়োলজিক্যাল , কেমিক্যাল অস্ত্র । এই তিন ধরনের অস্ত্র কে বিপুল ধ্বংসাত্মক ফলাফলবাহী অস্ত্র হিসাবে চিহ্

আমরা যদি এখন জানার চেষ্টা করি আসলেই এই বায়োলজিক্যাল ওয়েপেন বা জীবাণু অস্ত্র আসলে কি তাহলে প্রথমেই আসবে এক অদৃশ্য শত্রু ।। ধরা যায় না দেখা যায় না কিন্তু ধব্বংস ক্ষমতা ভয়াবহ ।জীবাণু অস্ত্র হলো একটি বিশেষ ধরনের অণুজীব বা আর্থ্রোপোডা শ্রেণীভুক্ত পোকা যা জীবাণুর অনুঘটকে প্রকল্পিত ও ছত্রভঙ্গ করে থাকে এবং তাদের তত্ত্ব প্রচার করে।’ যুদ্ধ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। জীবাণুগুলো বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে ।জীবানু অস্ত্র এমন এক ধরনের অস্ত্র যা একটি মাধ্যমে মহামারী করতে সক্ষম কোন জীবাণুকে বিশেষ উদ্দেশ্যে একটি নিদিষ্ট এলাকার সবার অজ্ঞাতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঐ এলাকার মানুষের ঐ রোগ প্রতিরোধে অক্ষম করে তুলে ।

আর্টিকেল পড়তে ভাল লাগছে না তাহলে ভিডিও দেখুন

অন্য যেকোন অস্ত্র থেকে এই জীবানু অস্ত্র তৈরিতে অনেক কম খরচ হয় । এক বর্গ কিলোমিটার এরিয়া জুড়ে প্রচলিত যুদ্ধে খরচ হয় $2000 , পারমাবিক অস্ত্রে খরচ $800, রাসায়নিক গ্যাসে খরচ $600 এবং বায়োলজিক্যাল অস্ত্রে খরচ পড়ে মাত্র $1 ডলার এর মতন । তাই এই বায়োলজিক্যাল অস্ত্রেকে বলা হয় গরিবদের পারমানবিক অস্ত্র ।উৎপাদন খরচ কম হলেও এর রক্ষনাবেক্ষণ এর খরচ রয়েছ বেশ ভালো ই । ভুলবসত যেন নিজেদের মাঝেই ছড়িয়ে না পড়ে এর জন্য উৎপাদন এর পর নিদিষ্ট উপায়ে সরক্ষিত করে রাখা হয়।মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বায়োলজিক্যাল ওয়েপন এক বার ব্যবহার এর পর সেটা থেকে নমনু সংগ্রহ করলে তারা নিজেরাই নিজদের সংখ্যা বাড়িয়ে যাবে ।পারমানবিক অস্ত্র বা অন্য অস্ত্র বানাতে অনেক বিশাল কর্মযক্ষ করতে হয় কিন্তু এই জীবাণু অস্ত্র খুব চুপিসাড়েই করা যায় । প্রায় ১২০০ রকমের জীবাণু অস্ত্রে ব্যবহারকারী অণুজীব বর্তমানে পৃথিবী তে রয়েছে। জীবাণু অস্ত্র হবার জন্য একটি অণুজীবের উচ্চ ইনফেকশন করার ক্ষমতা , রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা এবং ঐ রোগের ভ্যাক্সিনের অপ্রতুলতা এবং সহজে পরিবহন ব্যবস্থা থাকতে হবে ।মাত্র ১ গ্রাম বিষে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ মারার ক্ষমতা রাখে এই অস্ত্র । botulinum বিষ ৩ মিলিয়ন গুন বেশি ক্ষমতাশালি সারিন গ্যাস থেকে । এই বায়োলজিক্যাল অস্ত্র বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব । যেমন পানির লাইনে মাধ্যমে , কোন মাধ্যম ব্যবহার করে বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়াতে , গ্রেনেড বা ক্ষেপনাস্ত্র তে এই বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা যায় ।বিভিন্ন ধরনের জীবানু অস্ত্র রয়েছে যা দিন দিন আরো উন্নত থেকে উন্নততর করা হচ্ছে । আনথ্রাক্স বা প্লেগ বা গুটি বসন্ত এগুলো হচ্ছে আমাদের জানা জীবনু অস্ত্র । আনথ্রাক্স ৯৬ ঘন্টা পর্যন্ত বংশ বিস্তার করতে পারে যা মাহামারির জন্য উপযুক্ত ।কিছু বায়োলজিক্যালি এজেন্ট সমূহ :* Abstract* Anthrax* Plague* Brucellosis* Glanders* Melioidosis* Botulism* Variola Virusআরো অনেক বায়োলজিক্যাল এজেন্ট রয়েছে এবং রয়েছে বিভিন্ন বায়োলজিক্যাল টক্সিন –এব্রিন , রিসিন, বটুলিনাম টক্সিন টেত্রোডোটক্সিন ।

বিভিন্ন সময় এই বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে ।=> ১৩৪৭-১৩৫১ সালের দিকে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার এর ফলে ২৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় ।=> রাশিয়া ১৭১০ সালে সুইডিস দের সাথে যুদ্ধে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করে ।=> ১৭৬৭ সালের দিকে ভারত-ফারাসি যুদ্ধে ব্রিটিশরা জীবানু যুক্ত কম্বল বিতরন করে ।=> ১৯৩৭ সালে জাপান জীবানু অস্ত্রে পরীক্ষা শুরে করে ইউনিট ৭৩১ এ , যাতে ১০০০০ বন্দি মারা যায় ।=> এছাড়া জাপানীরা ২য় বিশ্বযুদ্ধে চীনের উপর জীবানু অস্ত্র প্রয়োগ করে ।১৯৮৫ -১৯৯১ সাল পর্যন্ত ইরাক botulinum , আনথ্রাক্সসহ আরো বেশি কিছু জীবানু অস্ত্র বিকাশ ঘটায় । ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশ জীবনু অস্ত্রের ব্যাপক মজুদ করে । যা এখন জেনেটিক্যালি অনেক গুন শক্তিশালি করে তৈরা করা ।এই যে বায়োলজিক্যাল ওয়েপেন এটার ব্যবহার যে এই আধুনিক কালে হইছে এটা ভাবা বোকামী । ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সেই প্রাচীন কালেই এটার ব্যবহার হইছে ভিন্ন ভাবে ।

জীবাণু অস্র | Image Source- magzter.com/

ধারণা করা হয়ে থাকে যে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মধ্য প্রাচ্যের একদল যোদ্ধার হাত ধরেই প্রথম পরিচিতি পায় এই জীবাণু অস্ত্র। সে সময় হিত্তিত নামে পরিচিত এই জাতির যোদ্ধারা তাদের শত্রু শহরের কাছে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ছয়টি ভেড়া ছেড়ে দিয়ে আসতো। স্থানীয় অধিবাসীরা যখন এগুলোকে কোনো ধরনের সন্দেহ না করেই তাদের শহরে নিয়ে অন্য গবাদিপশুর মতো করে পালতে শুরু করতো তখনই ভেড়ার গায়ে আগে থেকে প্রবেশ করানো র‍্যাভিট ফিভার এর জীবাণু শহরের অধিবাসীদের মধ্যে সংক্রমিত হতো। আর এই রোগের কারণে অল্প কিছুদিনের মাঝেই মারা যেত শহরের অর্ধেকেরও বেশি অধিবাসী যা হিত্তিতদের জন্য শহরের দখল নেওয়াটাও সহজ করে দিত।আমেরিকার সিভিল ওয়ারের সময়ও স্মলপক্সের জীবাণু ব্যবহারের অভিযোগ উঠে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে । আধুনিকালে জীবাণু অস্ত্র দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে জার্মানরা ব্যবহার করে স্বল্প মাত্রায় । এ গুলা ছিলো আনথ্রাক্স, কলেরা , স্মল পক্স এর জীবাণু । তারা রাশিয়ার সেন্ট পিটারসবারগে প্লেগের জীবাণু এবং ফ্রান্সের মস্পটেমিয়ান ঘোড়ার মাধ্যমে গ্লেন্ডারস ছড়ায় ।১৯৭৯ সালে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের মিলিটারি বায়োল্যাব থেকে আনথ্রাক্স রোগের জীবাণূ প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক লোক মারাও যায় । এবং এই ঘটনার তদন্তে সত্যতাও পাওয়া যায় ।

বর্তমান বিশ্বে আমেরিকা, রাশিয়া , জাপান , ব্রিটেন সহ বিভিন্ন দেশ এই বায়োলজিক্যাল ওয়েপেন নিয়ে কাজ করছে বলে প্রকাশ্যেই জানা যায় কিন্তু চীন , ভারত , উওর কোরিয়া , ইসরাইল , ইরান সহ কিছু দেশে গোপনে গবেষনা করে সফলতা লাভ করছে বলে ধারনা করা হয়।জীবাণু যুদ্ধের প্রতিরক্ষার জন্য সব থেকে প্রয়োজনীয় হলো জীবাণু অস্ত্রের প্রতিরোধী স্যুট , গ্লাভস ও বুট ব্যবহার করা । সাধারনত ১-১.৫ মাইক্রোমিটার সাইজের জীবাণূ থেকে রক্ষার জন্য এ ধরনের পোশাক ব্যবহার করা হয় । একেক ধরনের জীবাণু অস্ত্রের জন্য একেক ধরনের চিকিৎসা কার্যকর ।এই যে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র এর ব্যবহার যে কি ভয়াবহ সেটা প্রস্তুতকারী দেশও জানে কিন্তু তারপরও এটা রাখার প্রধান একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে মনস্তাতিক যুদ্ধে জয় লাভ করা । কোন দেশের এমন মরনারস্ত্র থাকলে অন্য দেশ যুদ্ধ করার জন্য একশবার হলেও ভাববে । তাছারা যুদ্ধের ময়দানে গুজব হিসাবে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র থাকার সুবিধা আছে ।। জীবানু অস্ত্র প্রয়োগ যেকোন শত্রু শিবিরে মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ।

১৯২৫ সালের দিকে জেনেভা প্রটোকলে জীবনু অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয় । ১৯৬০ দিকে ব্রিটেন এবং ১৯৬৯ দিকে যুক্তরাষ্ট জীবনু অস্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেও বিভিন্ন দেশ এখনো এই অস্ত্রের দিকেই ঝুকে আছে ।ভয়াবহতা থাকবেই যেমন অপর দিকে রয়েছে শান্তির বার্তা নিয়ে চলা মানুষরা । বায়োলজিক্যাল , কেমিক্যাল , নিউক্লিয়ার ইত্যাদি ভয়াবহ অস্ত্র মানব সভ্যতার জন্য লজ্জাজনক হলেও মানুষ শান্তির পথে চলবেই ।। এইটাই চিরন্তন নিয়ম । জাতীয়তাবাদ গোষ্টিবাদ থেকে যখন সকল মানুষ বেড়িয়ে এসে মানবতার এক ছাতার নিচে দাঁড়াবে ।। তখন চিন্তা করে দেখার সুযোগ হবে সীমানা নির্ধারণ করে ভুখন্ড বানিয়ে বানিয়ে যুদ্ধের খেলায় মাতায়ারা হওয়া টা হচ্ছে বোকামি ।।
ভালোবাসা বেচে থাকুক সকল মানুষের হৃদয়ে আর ব্যায়োলজিক্যাল অস্ত্রের প্রয়োগ যেন কখনো না হয় সেই কামনা করি ।

Ronykhan ron (Contributor AFB Daily )

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button