আন্তর্জাতিকসাম্প্রতিক

করোনার জন্ম ল্যাবরেটরিতে, বাদুড় বা সাপ থেকে নয়– ফরাসি গবেষক লুক মন্তেনিয়ার

২০০৮ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেলবিজয়ী, HIV ভাইরাসের আবিষ্কারক লুক মন্তেনিয়ার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কোভিড-১৯ ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছে। AIDS প্রতিষেধক ভ্যাক্সিন তৈরি করতে গিয়ে এই ভাইরাসের জন্ম হয়। HIV-র গঠনের সঙ্গে নোবেলকরোনার প্রচুর মিল রয়েছে। ম্যালেরিয়ার জীবানুর সঙ্গেও রয়েছে করোনার মিল। আর এটা বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই সম্ভব।

পৃথিবীর অন্যান্য বিখ্যাত বায়োলজিস্টরাও ইতোমধ্যে লুকের সঙ্গে সুর মিলাতে শুরু করেছেন।তবে চিনের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন নোবেল করোনার জন্ম উহানের ওয়েট মার্কেটে নয়। কারণ করোনা আক্রান্তদের অধিকাংশ-এরই এই বাজারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে লুকের মতে, করোনার জন্মবৃত্তান্ত ধামাচাপা দিতে বুঝেশুনে ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে চিন।

করোনার জিনগত গঠনে রহস্য রয়েছে বলে প্রথম দাবি করেছিলেন ইয়াং চ্যান। ৩ ফেব্রুয়ারি নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রে বলা হয়, বাদূড়ের শরীরে যে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায় তেমন দুটি ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে কোভিড-১৯ এর। সেই দুটি ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয় না। সুতরাং তাদের সঙ্গে করোনার এমন মিল প্রাকৃতিকভাবে অসম্ভব। আর এতেই প্রমাণিত হয়, প্রাকৃতিকভাবে করোনার জন্ম হয়নি। বরং এর উৎস ল্যাবরেটরি।
চিনের উহানে কর্মরত শি জিং লি নামে এক মাইক্রোবায়োলজিষ্ট যিনি ২০০৩ সাল থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন তিনি বলেন, প্রায় দেড় দশক ধরে কৃত্রিম ভাইরাস নিয়ে কাজ করছে উহান ভাইরোলজি ল্যাব। ২০১০ সাল থেকে তিনি ও তাঁর টিম বাদূড় থেকে মানুষের শরীরে করোনা সংক্রমণ হয় কিনা তা নিয়ে বিশদ গবেষণা করছেন। তাঁর একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, বাদূড়ের শরীর থেকে মানুষের শরীরে করোনা সংক্রমণ কভাবে সম্ভব, তা খুঁজে বের করে ফেলেছেন শি।

ভাইরাসের মাথায় যে প্রোটিন থাকে তাকে বলে এস- প্রোটিন। বাদূড়ের দেহে যে করোনা পাওয়া যায় তার এস-প্রোটিন মানুষের দেহে সংক্রমিত হয় না। কিন্তু নোবেলকরোনায় যে এস- প্রোটিন পাওয়া গিয়েছে তার সঙ্গে SARS-1 ও SARS-2 এর প্রোটিনের যথেষ্ট মিল রয়েছে, যা ল্যাবরেটরির হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, করোনার জন্ম উহানের ল্যাবেই। ফক্স নিউজও এমনটাই দাবি করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৮ সালে আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী উহানে গিয়েছিল। তাঁরা উহানের ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল, উহানের এই ল্যাব বিশ্বের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এই পরিস্থিতির দায় আমেরিকারও কম নয়। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে আমেরিকার অর্থলগ্নি আছে। আমেরিকা বছরে প্রায় ৩৭ লাখ ডলার অনুদান দিয়ে থাকে এই ল্যাবরেটরিকে। মার্কিন বিজ্ঞানীরা যখন উহান ল্যাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তখন আমেরিকা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button