জাতীয়সাম্প্রতিক

বাতিল হতে পারে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি

করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। সমান তালে উদ্ভুত পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশেও। বন্ধ রয়েছে সরকারি- বেসরকারি নানা অফিস আদালত।

তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ছুটি শেষে সরকারি অফিস খোলার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাতিল হতে পারে শনিবারের ছুটি। বিষয়টি এখনও চিন্তা-ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর আর অফিস আদালত খোলার সুযোগ হয়ে উঠেনি। দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। এদিকে বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমেগুলোতে জানিয়েছেন আগামি ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হবে সরকারি ছুটি।

শনিবার ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, এই পরিস্থিতিতেও আমরা আমাদের কাজটা করার চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দিলে এমনটা (শনিবার ছুটি বাতিল) হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও সেভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

একজন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই এর আগেও শনিবারের ছুটি বাতিলের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটি অনুমোদন দেননি। কারণ এর সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনস্তত্বও জড়িত। যারা কাজ করবেন তারা এটিকে কীভাবে নিচ্ছেন, সেটিও একটি বড় বিষয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি ছুটির বিষয়টিও সামনে আসবে হয়তো।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকার করোনা সংক্রমণরোধে কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত। সাপ্তাহিক ছুটি একদিন কমানোর বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন হয়তো এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি হয়তো সবকিছু বিবেচনা করে শনিবারের ছুটি বাতিল করা কিংবা বর্তমান অবস্থাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান নানা যুক্তি দেখিয়ে সপ্তাহে দুই দিন ছুটির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিকট। তার এই ফর্মুলায় সায় দেন বেগম জিয়া। সেই থেকে শুরু হলো সপ্তাহে দু’দিন ছুটি।

Show More

এই জাতীয় আরো পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button